বৈরী আবহাওয়ার কারণে গত ১৩ জুলাই এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিতে না পারা শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ সুযোগের ঘোষণা দিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। জাতীয় সংসদে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন এই ঘোষণা দেওয়ার পর থেকে পরীক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে। একইসঙ্গে ওইদিন দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতির কারণে যেসব পরীক্ষার্থীর পরীক্ষা খারাপ হয়েছে, তারাও চাইলে পুনরায় পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবেন।
গত ১৩ জুলাই সারাদেশে টানা বৃষ্টি ও জলাবদ্ধতার মধ্যেই এইচএসসি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছিল। পরীক্ষা স্থগিত না করায় শিক্ষার্থীদের তীব্র প্রতিবাদের মুখে পরদিন বিভিন্ন স্থানে আন্দোলন হয়। এরপরই জাতীয় সংসদে শিক্ষামন্ত্রী ওইদিন অনুষ্ঠিত পদার্থবিজ্ঞান (তত্ত্বীয়) প্রথমপত্র, হিসাববিজ্ঞান প্রথমপত্র ও যুক্তিবিদ্যা প্রথমপত্র বিষয়ে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দেন।
ঢাকা শিক্ষা বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, ১৩ জুলাই পরীক্ষায় অনুপস্থিত শিক্ষার্থীরা শিক্ষা মন্ত্রণালয় নির্ধারিত তারিখে একই প্রশ্নপত্রে পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবেন। এছাড়া চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের সঙ্গে অভিন্ন প্রশ্নে পুনঃপরীক্ষা অনুষ্ঠিত হলে আগ্রহী পরীক্ষার্থীরাও এতে অংশ নিতে পারবেন। তবে পুনঃপরীক্ষার আবেদন পদ্ধতি, সময়সূচি ও অন্যান্য নির্দেশনা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। আগামী সপ্তাহে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের বৈঠকে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে এবং পরে বিস্তারিত নির্দেশনা বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানানো হবে।
এদিকে পদার্থবিজ্ঞান প্রথমপত্রের ৬ ও ৭ নম্বর প্রশ্নে ত্রুটি থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে বোর্ড। ফলে ওই দুই প্রশ্নের উত্তর না লিখলেও পরীক্ষার্থীরা পূর্ণ নম্বর পাবেন। এছাড়া পদার্থবিজ্ঞান, হিসাববিজ্ঞান ও যুক্তিবিদ্যা বিষয়ে অতিরিক্ত ৫ নম্বর গ্রেস দেওয়ার বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে, যদিও এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত হয়নি। বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান জানিয়েছেন, শিক্ষামন্ত্রীর ঘোষণার আলোকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং মন্ত্রণালয় থেকে নির্দেশনা পাওয়ার পরই বিস্তারিত জানানো হবে।
অন্যদিকে, অনেক পরীক্ষার্থী দাবি জানিয়েছেন যে পদার্থবিজ্ঞান প্রথমপত্রের পুনঃপরীক্ষা নিয়ে দুটি পরীক্ষার মধ্যে যেটিতে বেশি নম্বর আসবে, সেটিই চূড়ান্ত ফলাফলে যুক্ত করা হোক। তবে এই দাবির বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়নি। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ শিবলী সাদিক জানিয়েছেন, শিক্ষার্থীদের স্বার্থ বিবেচনায় রেখেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে এবং তা আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়ে দেওয়া হবে।





