সৌদির তেল স্থাপনায় হুথিদের হামলা, মধ্যপ্রাচ্যে বাড়ছে সংঘাতের আশঙ্কা

প্রকাশ:

মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কার মধ্যেই ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীরা সৌদি আরবের লোহিত সাগর উপকূলের তেল স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে। হুথিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহইয়া সারি জানিয়েছেন, তারা সৌদি রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি আরামকোর জিজান ও ইয়ানবুর স্থাপনায় এই হামলা পরিচালনা করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এবং রয়টার্সের যাচাই করা ভিডিওতে জিজানের আরামকো শোধনাগারের দিক থেকে ঘন ধোঁয়া উঠতে দেখা গেছে। এশিয়াভিত্তিক দুটি জ্বালানি বাণিজ্য সূত্র জানিয়েছে, জিজানের জ্বালানি ও তেল সংরক্ষণাগারে ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে, যদিও আরামকো এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেনি।

এদিকে, ইয়ানবুতে তেল স্থাপনা লক্ষ্য করে ছোড়া দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সৌদি আরবে মোতায়েন গ্রিক বাহিনীর পরিচালিত মার্কিন প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভূপাতিত করেছে বলে গ্রিক নিরাপত্তা সূত্র জানিয়েছে। লোহিত সাগরের তীরে অবস্থিত ইয়ানবু বর্তমানে সৌদি আরবের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল রপ্তানি বন্দর। হরমুজ প্রণালির বিকল্প পথ হিসেবে এর গুরুত্ব অনেক বেশি। অন্যদিকে, জিজানের শোধনাগারে প্রতিদিন প্রায় চার লাখ ব্যারেল তেল পরিশোধনের সক্ষমতা রয়েছে।

এর আগে শুক্রবার সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট লোহিত সাগর উপকূলীয় হোদেইদা শহরে হুথিদের সামরিক অবস্থানে বিমান হামলার কথা জানিয়েছিল। সৌদি-সমর্থিত ইয়েমেন সরকারের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তাদের বিমান বাহিনী মারিব ও আল-জাওফ প্রদেশে হুথিদের ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কেন্দ্র ও অস্ত্রগুদামে হামলা চালিয়েছে। ইয়েমেনের কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, গৃহযুদ্ধের উভয় পক্ষই বর্তমানে সম্মুখসারিতে নতুন করে সেনা ও অস্ত্র মোতায়েন করছে। ২০১৪ সালে হুথিরা রাজধানী সানা দখলের পর থেকে সৌদি নেতৃত্বাধীন আরব জোট তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালিয়ে আসছে। ২০২২ সালের যুদ্ধবিরতির মাধ্যমে সংঘাত অনেকটা স্তিমিত থাকলেও চলতি মাসে সেই সমঝোতা কার্যত ভেঙে পড়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষিতে হুথিরা পুনরায় সক্রিয় হয়ে উঠেছে। গত সপ্তাহে হুথিরা সৌদি আরবের বিরুদ্ধে নৌ অবরোধের ঘোষণা দেয় এবং গোষ্ঠীটির নেতা আবদুল মালিক আল-হুথি হুঁশিয়ারি দেন যে, সৌদি আরবের সব তেল স্থাপনাই তাদের সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু। বৃহস্পতিবার লোহিত সাগরে দুটি সৌদি তেলবাহী ট্যাংকারেও হামলার দাবি করেছে তারা। এদিকে, মার্কিন সামরিক বাহিনী শনিবার জানিয়েছে, ইরানের বিরুদ্ধে তাদের নৌ অবরোধ কার্যকর রয়েছে, তবে টানা ১৩ রাত ধরে চলা বিমান হামলা কেন হঠাৎ বন্ধ রাখা হয়েছে, সে বিষয়ে কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়া, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা সরঞ্জামের মজুত কমে যাওয়া এবং বৈশ্বিক অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাবের আশঙ্কায় ট্রাম্প প্রশাসন আপাতত ইরানে হামলা জোরদার করার পরিকল্পনা থেকে সরে এসেছে।

শেয়ার করুন