শনিবার গভীর রাত থেকে শুরু হওয়া বৃষ্টি রোববারও বিরামহীনভাবে অব্যাহত থাকায় রাজধানী ঢাকা স্থবির হয়ে পড়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, রোববার সকাল ৯টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় ঢাকায় ১৩৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এর মধ্যে সকাল ৬টা থেকে ৯টা পর্যন্ত মাত্র তিন ঘণ্টায় ঝরেছে ৩৮ মিলিমিটার বৃষ্টি।
টানা এই বর্ষণে দৈনিক বাংলা, ফকিরাপুল, আরামবাগ, শাপলা চত্বর থেকে টিকাটুলি মোড়, শান্তিনগর, রাজারবাগ ও নয়াপল্টনের প্রধান সড়কসহ বিভিন্ন এলাকার অলিগলি পানিতে তলিয়ে গেছে। পুরানা পল্টন কালভার্ট রোডে হাঁটুপানি জমে যাওয়ায় রাস্তার পাশের দোকানগুলোতে পানি ঢুকে পড়েছে। এছাড়া সচিবালয়ের ভেতরেও পানি জমে থাকতে দেখা গেছে। খিলক্ষেত থেকে লেকসিটি পর্যন্ত সড়কও হাঁটুপানিতে নিমজ্জিত ছিল। ভুক্তভোগী এক যাত্রী জানান, পুরো রাস্তায় হাঁটুর কাছাকাছি পানি থাকায় রিকশা ও ভ্যান চালকরা অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করছেন এবং সিএনজি পাওয়া যাচ্ছে না।
যাত্রাবাড়ী, কুতুবখালী, শনির আখড়া এবং ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের বিভিন্ন অংশ বেলা সাড়ে ১১টা পর্যন্ত পানির নিচে ছিল। মহাখালী দক্ষিণপাড়ার মূল সড়কও পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় অফিসগামী মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েন। ট্রাফিক গুলশান বিভাগ জানিয়েছে, ভারী বর্ষণের কারণে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের কাকলী র্যাম্পের নিচের অংশ, বনানী ও ঢাকা গেটসহ নিচু এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হওয়ায় যানবাহনের গতি কমে গেছে এবং যানজট দেখা দিয়েছে। কাকলী মোড়ে যানবাহন চলাচলে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করতে হচ্ছে।
তবে বৃষ্টির মধ্যেও মেট্রোরেল চলাচল স্বাভাবিক ছিল, যদিও সচিবালয় ও মতিঝিল স্টেশনে যাত্রীদের প্রচণ্ড ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। সড়কে ব্যাটারিচালিত রিকশা ও মোটরসাইকেলের উপস্থিতি ছিল বেশ কম। এদিকে, বৈরী আবহাওয়ার কারণে রাজধানীর বেশ কিছু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। এর মধ্যে ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের নবম শ্রেণির অর্ধবার্ষিক, দশম শ্রেণির প্রাক-নির্বাচনী ও একাদশ শ্রেণির ব্যবহারিক পরীক্ষা এবং ধানমন্ডি কামরুন্নেছা স্কুলের অর্ধবার্ষিকী ও প্রাক-নির্বাচনী পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
খিলক্ষেত থেকে লেকসিটি এলাকার পরিস্থিতি তুলে ধরে গণমাধ্যমকে একজন বলেন, “খিলক্ষেত থেকে লেকসিটি পর্যন্ত রিকশা ভাড়া ৩০ টাকা করে। কয়েকজন মিলে গেলে ১০-২০ টাকা করে নেয়। পুরো রাস্তায় হাঁটুর কাছাকাছি পানি থাকায় কয়েকজন মিলে চড়লেও প্রত্যেকের থেকে ১০০ টাকা রিকশায় ভাড়া নিচ্ছে।”
তিনি আরও বলেন, “অতিরিক্ত যান হিসেবে ভ্যান চলাচল করতে দেখা যায়। তারা ভাড়া নিচ্ছে প্রত্যেকের থেকে ৫০ টাকা। দূর যাতায়াতের জন্য খুঁজলেও সিএনজি মেলেনি।”





