ব্যক্তিগত মুহূর্তের ভিডিও প্রকাশের ঘটনায় সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। বুধবার রাজধানীর মিন্টু রোডে বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে অনুষ্ঠিত দলীয় বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। জামায়াতের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সাংগঠনিক তদন্তে নৈতিক স্খলনের প্রমাণ পাওয়ায় দলের গঠনতন্ত্রের ৬২ নম্বর ধারা অনুযায়ী তাকে বহিষ্কার করা হয়েছে এবং বিষয়টি নির্বাচন কমিশনকে দ্রুত অবহিত করা হবে।
দল থেকে বহিষ্কারের পর থেকেই গাজী নজরুলের সংসদ সদস্য পদ থাকবে কি না, তা নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠেছে। জামায়াতের আইনজীবী শিশির মনির দাবি করেছেন, দল থেকে বহিষ্কারের ফলে তার এমপি পদ থাকবে না। তবে সিনিয়র আইনজীবী ড. শাহদীন মালিকের মতে, সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী দল থেকে বহিষ্কারের কারণে সংসদ সদস্যপদ যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার শিহাব উদ্দিন খানের মতে, যেহেতু তিনি নিজে পদত্যাগ করেননি বা কোনো ফৌজদারি মামলায় দুই বছরের বেশি দণ্ডিত হননি, তাই আইনগতভাবে তার সদস্যপদ শূন্য হওয়ার সম্ভাবনা নেই। তবে সংসদ সদস্যপদ শূন্যতার প্রশ্ন উঠলে সংবিধানের ৬৬(৪) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী নির্বাচন কমিশন বিষয়টি নিষ্পত্তি করবে।
নির্বাচন কমিশনার রহমানেল মাছউদ জানিয়েছেন, এ বিষয়ে এখনো তাদের কাছে কোনো চিঠি আসেনি। সংসদ থেকে চিঠি আসার পরই নির্বাচন কমিশন বিষয়টি পর্যালোচনা করে ব্যবস্থা নিতে পারবে। সংবিধানে সংসদ সদস্যপদ বাতিলের সুনির্দিষ্ট কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে অপ্রকৃতিস্থ হওয়া, দেউলিয়া হওয়া, বিদেশি নাগরিকত্ব গ্রহণ, নৈতিক স্খলনজনিত ফৌজদারি অপরাধে দুই বছরের বেশি কারাদণ্ড বা সংসদে টানা ৯০ দিন অনুপস্থিত থাকা। অতীতে লতিফ সিদ্দিকী বা ডা. মুরাদ হাসানের মতো নেতাদের দল থেকে বহিষ্কার করা হলেও তাদের সংসদ সদস্যপদ বহাল ছিল।
এদিকে, ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর থেকে একের পর এক বিতর্কের মুখে পড়েছেন গাজী নজরুল। তিনি ভিডিওর তরুণীকে নিজের দ্বিতীয় স্ত্রী বলে দাবি করলেও বিয়ের তারিখ ও রেজিস্ট্রেশন নিয়ে নানা অসংগতি পাওয়া গেছে। এমপি গাজী নজরুল ইসলাম দাবি করেন, গত ১৭ই জুন তাদের বিয়ে হয়েছে। ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর পৃথক ভিডিও বার্তায় গাজী নজরুল ইসলামের প্রথম স্ত্রী মাকসুদা বেগম, দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম খাতুন এবং মরিয়মের বাবা মাসুম বিল্লাহ একই ধরনের বক্তব্য দেন। তারা জানান, পারিবারিকভাবেই ৩ লাখ টাকা দেনমোহরে মরিয়মের সঙ্গে গাজী নজরুল ইসলামের বিয়ে হয়েছে এবং বিষয়টি নিয়ে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। কাবিননামা প্রস্তুতকারী কাজী মাওলানা বিএম বাকী বিল্লাহ স্বীকার করেছেন যে, ভিডিও ভাইরালের পর এমপি’র ফোনে দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে কাবিননামা তৈরি করা হয় এবং পরে সবাই স্বাক্ষর করেন। উল্লেখ্য, ২০০৮ সালের ২২শে মে থেকে তিনি এই নির্বাচনী এলাকায় সক্রিয় রয়েছেন। স্থানীয়ভাবেও এই ঘটনা নিয়ে শ্যামনগরে এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও বিক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। ভাইরাল হওয়া অন্য একটি ভিডিওতে দেখা যায়, এমপি নজরুল একটি কক্ষে কয়েকজন ব্যক্তির সামনে নিজের অন্যায় স্বীকার করছেন এবং ভিডিও ডিলিট করার অনুরোধ জানাচ্ছেন।





