দল থেকে বহিষ্কৃত গাজী নজরুলের সংসদ সদস্য পদ নিয়ে বিতর্ক

প্রকাশ:

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ‘ব্যক্তিগত মুহূর্তের’ ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার ঘটনায় সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে দল থেকে বহিষ্কার করেছে জামায়াতে ইসলামী। এই সিদ্ধান্তের পর থেকেই তাঁর সংসদ সদস্য পদ থাকবে কি না, তা নিয়ে রাজনৈতিক ও আইনি অঙ্গনে প্রশ্ন উঠেছে। ৭৪ বছর বয়সী নজরুল ইসলাম ১৯৯১ সালে প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন এবং এবার তিনি তৃতীয়বারের মতো দায়িত্ব পালন করছিলেন। তিনি জামায়াতের সাতক্ষীরা জেলা শাখার আমির এবং কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরার সদস্য ছিলেন।

ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর গাজী নজরুল জানিয়েছিলেন, ভিডিওতে থাকা তরুণী তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রী। তবে দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ জরুরি সভায় বসে তাঁকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেয়। দলীয় প্রার্থীরা সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার পর দল থেকে বহিষ্কৃত হলে কী হবে, তা সংবিধানে সরাসরি উল্লেখ নেই। সংবিধানের ৬৬ অনুচ্ছেদে নৈতিক স্খলনজনিত ফৌজদারি অপরাধে অন্তত দুই বছরের কারাদণ্ডের বিধান থাকলেও, গাজী নজরুলের ক্ষেত্রে বর্তমান পরিস্থিতি সরাসরি অযোগ্যতা হিসেবে গণ্য হচ্ছে কি না, তা নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। তবে আবু হেনার ঘটনাটি ঘটে ২০০৮ সালের আগে, যখন তাঁকে দল থেকে বহিষ্কার করেছিল বিএনপি। তখন আবু হেনার সংসদ সদস্য পদ বহাল রাখার সিদ্ধান্ত দিয়েছিলেন তৎকালীন স্পিকার মুহাম্মদ জমির উদ্দিন সরকার।

তবে সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, কোনো রাজনৈতিক দলের মনোনীত প্রার্থী নির্বাচিত হওয়ার পর যদি তিনি দল থেকে পদত্যাগ করেন বা দলের বিপক্ষে ভোট দেন, তবে তাঁর আসন শূন্য হবে। এ বিষয়ে সাবেক নির্বাচন কমিশনার এম সাখাওয়াত হোসেনের মতে, দলীয় মনোনীত প্রার্থী বহিষ্কৃত হলে তিনি আর দলে থাকেন না এবং নির্বাচিত হওয়ার পর স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার সুযোগ না থাকায় তাঁর আসন শূন্য হয়ে যাওয়ার কথা।

অতীতে এ ধরনের ঘটনার নজির থাকলেও সুরাহা হওয়া নিয়ে জটিলতা ছিল। ২০১৪ সালে আওয়ামী লীগ থেকে বহিষ্কৃত লতিফ সিদ্দিকীর ক্ষেত্রেও একই বিতর্ক উঠেছিল। এরপর নির্বাচন কমিশন দুই সপ্তাহের জন্য এ বিষয়ের সব কার্যক্রম স্থগিত করেন। এরপর ২০১৫ সালের ১ সেপ্টেম্বর লতিফ সিদ্দিকী সংসদ অধিবেশনে যোগ দিয়ে বক্তৃতা দেওয়ার পর স্পিকারের কাছে পদত্যাগপত্র দেন।

২০১৫ সালের ৩ সেপ্টেম্বর লতিফ সিদ্দিকীর আসনটি শূন্য হওয়ার বিষয়টি সংসদকে অবহিত করেন, তখনকার স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী। জামায়াতে ইসলামী জানিয়েছে, তারা গাজী নজরুলের বহিষ্কারের বিষয়টি নির্বাচন কমিশনকে জানাবে। শ্যামনগরে ইতোমধ্যে তাঁকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা ও বিচারের দাবিতে স্থানীয় পর্যায়ে বিক্ষোভ হয়েছে।

শেয়ার করুন