ফরিদপুর পৌরসভার ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের অলিয়াবাদ আব্দুর রহমান মোল্লার ডাঙ্গী এলাকায় শামেলা আক্তার (৬০) নামের এক নারীকে ধারাল অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তার ছেলে রাহিম শেখের (৩২) বিরুদ্ধে। বৃহস্পতিবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। নিহত শামেলা আক্তার ওই এলাকার মৃত আকবর শেখের স্ত্রী।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রতিবেশী এক নারী দোতলার ছাদ থেকে শামেলা আক্তারের রক্তাক্ত মরদেহ উঠানে পড়ে থাকতে দেখেন। তার চিৎকারে স্থানীয়রা ছুটে আসেন এবং পুলিশকে খবর দিলে তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত রাহিম শেখ পলাতক রয়েছেন।
এলাকাবাসী জানিয়েছেন, রাহিম দীর্ঘ দিন ধরে মাদকাসক্ত এবং কিছুটা মানসিক ভারসাম্যহীন ছিলেন। নেশার টাকার জন্য তিনি প্রায়ই নিজের মা ও ভাইবোনদের মারধর করতেন। স্থানীয় বাসিন্দা সুমন শেখ বলেন, রাহিম নেশার টাকার জন্য সব সময় পরিবারে ঝামেলা করত। আজ টাকার জন্য বিরোধের জেরেই সে নিজের মাকে হত্যা করেছে বলে এলাকাবাসীর ধারণা।
ঘটনার ভয়াবহতায় তীব্র ক্ষোভ ও আতঙ্ক প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। ফরিদপুর পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর সৈয়দ তনু বলেন, সন্তানের হাতে মায়ের এই পরিণতি কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। এটি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক ঘটনা এবং তারা দ্রুত তদন্ত সাপেক্ষে রাহিমের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
কোতোয়ালি থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সুকান্ত দত্ত জানান, পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মাথায় গুরুতর আঘাত ও থেঁতলানো অবস্থায় মরদেহ উদ্ধার করেছে। হত্যার সুনির্দিষ্ট কারণ এখনও নিশ্চিত হওয়া না গেলেও, ঘরের ভেতর তল্লাশি চালিয়ে ফয়েল পেপার, মোমবাতি ও সিগারেটের প্যাকেটসহ মাদকসেবনের বিভিন্ন আলামত জব্দ করা হয়েছে। রাহিম শেখকে গ্রেপ্তারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একাধিক টিম কাজ করছে এবং এ ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
উল্লেখ্য, রাহিম শেখ এর আগে ১০ বছর আগে নিজের সৎমাকে কুপিয়ে হত্যা করেছিলেন। সেই মামলায় পাঁচ থেকে ছয় বছর জেল খেটে তিনি সম্প্রতি জামিনে কারামুক্ত হন।





