৬ আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

অযৌক্তিকভাবে পণ্যের দাম বাড়ালে কঠোর ব্যবস্থা: বাণিজ্যমন্ত্রী

প্রকাশ:

নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখতে এবং বাজারমূল্য স্থিতিশীল রাখতে নজরদারি আরও জোরদার করার ঘোষণা দিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, বর্তমান পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে কেউ যদি কৃত্রিমভাবে পণ্যের দাম বাড়ায় কিংবা অতিরিক্ত মুনাফা করার চেষ্টা করে, তবে তার বিরুদ্ধে কঠোর ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) বিকেলে সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত এক পর্যালোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। নিত্যপণ্যের সরবরাহ ও বাজারমূল্য পরিস্থিতি নিয়ে এ সভার আয়োজন করা হয়।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, কেবল পবিত্র রমজান মাসকে কেন্দ্র করে নয়, বরং সারা বছরই নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে রাখা এবং স্থিতিশীল রাখা সরকারের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার। এ লক্ষ্যে আমদানিকারক, উৎপাদক, ব্যবসায়ী সংগঠন এবং সরকারের সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে পারস্পরিক সমন্বয় আরও বৃদ্ধি করা হবে। বাজারে কোনো ধরনের অস্বাভাবিক বা অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি হতে দেওয়া হবে না বলে তিনি প্রতিশ্রুতি দেন।

আসন্ন রমজানে সাধারণভাবেই ভোগ্যপণ্যের চাহিদা বাড়ে উল্লেখ করে খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির সভায় উপস্থিত ব্যবসায়ী নেতাদের ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, সরকারের বাজার ব্যবস্থাপনা কেবল রমজানকেন্দ্রিক নয়, সারা বছর জুড়েই যেন পণ্য সরবরাহ স্বাভাবিক থাকে, তা নিশ্চিত করাই মূল লক্ষ্য। সাম্প্রতিক পরিস্থিতি প্রসঙ্গে মন্ত্রী উল্লেখ করেন, গ্যাস সরবরাহে বিঘ্ন ঘটায় দেশের কয়েকটি শিল্পপ্রতিষ্ঠানে উৎপাদন কিছুটা ব্যাহত হয়েছে এবং পণ্য পরিবহনেও কিছু প্রতিবন্ধকতা তৈরি হয়েছে। এর পাশাপাশি ঝড়-বৃষ্টিসহ বৈরী আবহাওয়াও কিছু অঞ্চলের বাজারে প্রভাব ফেলেছে। তবে শীতের মৌসুম চলে আসায় দ্রুতই নতুন সবজি বাজারে আসবে এবং সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতি ঘটবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোকে নিয়মিত বাজার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের আহ্বান জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, খুচরা বাজারে পণ্যের দামে দুই-চার টাকার সামান্যতম ওঠানামাও সামগ্রিক বিচারে সাধারণ ভোক্তাদের মধ্যে একটি বড় আস্থার সংকট তৈরি করতে পারে। তাই বাজার স্থিতিশীল রাখার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের বিশ্বাসযোগ্যতা ধরে রাখাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। ভোক্তাদের এই আস্থা আরও সুদৃঢ় করতে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, জেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর যৌথ সমন্বয়ে বাজার মনিটরিং ও নজরদারি কার্যক্রম আরও জোরদার করা হবে। পাশাপাশি আমদানিকারকদের সঙ্গে নিয়মিত বৈঠক করে পণ্যের মজুত ও এলসি পরিস্থিতির মূল্যায়ন করা হবে।

বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি প্রসঙ্গে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম বাড়লে তার অর্থনৈতিক চাপ বাংলাদেশের ওপরও এসে পড়ে। সরকার যদি এই বর্ধিত মূল্যের পুরো চাপ সাধারণ ভোক্তার ওপর না দিয়ে নিজে বহন করে, তবে সেই দায় রাষ্ট্রীয় অর্থব্যবস্থার ওপর গিয়ে বর্তায়। এ কারণে জ্বালানির ব্যবহারে সবাইকে সাশ্রয়ী ও দক্ষ হওয়ার পরামর্শ দেন তিনি। ব্যবসায়ী ও বাজার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের নীতিগত সহায়তা দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে তিনি বলেন, নিত্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে বর্তমান কর কাঠামোর বিভিন্ন দিকও পর্যালোচনা করে দেখা হবে।

উক্ত সভায় বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের পক্ষ থেকে দেশের নিত্যপণ্যের চাহিদা, আমদানি ও সামগ্রিক সরবরাহ পরিস্থিতি তুলে ধরা হয়। কমিশনের উপস্থাপিত তথ্যে জানানো হয়, বিগত বছরের একই সময়ের তুলনায় বর্তমানে দেশে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের আমদানি পরিস্থিতি এবং এলসি (ঋণপত্র) খোলার হার যথেষ্ট ইতিবাচক অবস্থায় রয়েছে।

শেয়ার করুন