গণবিয়ের নামে প্রতারণা: বিয়ের সাজে মন্দিরে অপেক্ষায় ৪০ বর

প্রকাশ:

ভারতের মধ্যপ্রদেশের দেওয়াস এলাকায় গণবিয়ের নামে এক ভয়াবহ প্রতারণার ঘটনা ঘটেছে। বিয়ের পোশাকে সজ্জিত প্রায় ৪০ জন বর এবং তাদের পরিবারের সদস্যরা সকাল থেকেই মন্দিরে অপেক্ষায় ছিলেন কনেদের জন্য। কিন্তু দিনের শেষে কোনো কনের দেখা না মেলায় বেরিয়ে আসে চাঞ্চল্যকর সত্য—গণবিয়ের নামে তাদের বড় ধরনের প্রতারণার ফাঁদে ফেলা হয়েছে।

ঘটনার সূত্রপাত হয় যখন ভারতের একটি গ্রামের এক ব্যক্তি নিজেকে ঘটক পরিচয় দিয়ে ভুক্তভোগী বরদের পরিবারের সাথে যোগাযোগ করেন। তিনি দাবি করেছিলেন, একটি ছবির অ্যালবাম থেকে এতিম নারী পছন্দ করে বিয়ে করা যাবে এবং এই গণবিয়ের আয়োজনে অংশগ্রহণের জন্য জনপ্রতি প্রায় ২০০ ডলার দিতে হবে। অভিষেকের মতো অনেক বরই এই প্রলোভনে পড়েছিলেন। গত মে মাসের শেষ দিকে নির্ধারিত দিনে সকাল ৮টায় শেরওয়ানি ও কুর্তা পরে তারা মন্দিরে হাজির হন। কিন্তু সারাদিন অপেক্ষার পরও কনেরা না আসায় তারা বুঝতে পারেন তারা প্রতারিত হয়েছেন।

তদন্তকারী পুলিশ কর্মকর্তা প্রীতি কাটারে জানান, প্রতারকরা মূলত গ্রামাঞ্চলের ২০ থেকে ৪০ বছর বয়সী পুরুষদের লক্ষ্যবস্তু বানিয়েছিল। লজ্জার কারণে অনেক ভুক্তভোগী অভিযোগ করতেও এগিয়ে আসেননি। তিনি আরও জানান, প্রতিটি বরের কাছ থেকে ১০ হাজার থেকে ২৫ হাজার রুপি করে হাতিয়ে নিয়ে এই চক্রটি প্রায় ৪ হাজার ডলার আয় করেছে।

পুলিশের সাব-ইন্সপেক্টর রাম লাল ভগত জানিয়েছেন, তার ৪০ বছরের চাকরি জীবনে এমন ভুয়া গণবিয়ের ঘটনা তিনি প্রথম দেখলেন। তদন্তে জানা গেছে, এই প্রতারণার সাথে জড়িত ৪৫ বছর বয়সী দিনেশ বৈরাগী, তার ভাই ৪০ বছর বয়সী মুকেশ বৈরাগিসহ চার সহযোগী। জুলাইয়ের শেষ দিকে তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। দোষী সাব্যস্ত হলে তাদের সর্বোচ্চ তিন বছরের কারাদণ্ড ও জরিমানা হতে পারে।

অভিষেক নামের এক ভুক্তভোগী জানান, পরে তিনি কথিত ঘটকদের দেওয়া ছবিগুলো যাচাই করে দেখেন যে, ওই নারীরা কোনো এতিম নন, বরং তারা ইনস্টাগ্রামের জনপ্রিয় ইনফ্লুয়েন্সার। পুলিশ নিশ্চিত করেছে, এই ভুয়া গণবিয়ের সাথে কোনো সরকারি প্রকল্প বা নির্বাচনের সম্পর্ক নেই; প্রতারক পরিবারটি গ্রামে তাদের পরিচিতি ও বিশ্বাসযোগ্যতাকে পুঁজি করেই এই জালিয়াতি করেছে।

শেয়ার করুন