প্রকাশ: ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:০০ এএম। রিকশা বাঙালির গর্ব ও ঐতিহ্যের অংশ হলেও এর আধুনিক সংস্করণ 'ই-রিকশা' বা ব্যাটারিচালিত রিকশা বর্তমানে রাজধানীর জন্য এক বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কোনো প্রকার নিবন্ধন, অনুমোদিত নকশা, এমনকি চালকদের লাইসেন্স ছাড়াই এসব যান এখন অলিগলি ছাড়িয়ে ঢাকার প্রধান সড়ক, এমনকি উড়ালসড়কেও অবাধে চলাচল করছে। এই অনিয়ন্ত্রিত যানের দাপটে সড়কে যানজট সৃষ্টির পাশাপাশি প্রতিনিয়ত ঘটছে দুর্ঘটনা।
সরকারি কোনো সংস্থার কাছেই রাজধানীতে চলাচলকারী ই-রিকশার কোনো সঠিক হিসাব নেই। তবে মালিক ও শ্রমিক সংগঠনগুলোর তথ্যানুযায়ী, বর্তমানে নগরীতে প্রায় ১২ লাখ ই-রিকশা ও ইজিবাইক চলছে। সিটি করপোরেশনের তথ্যমতে, ঢাকায় নিবন্ধিত প্যাডেলচালিত রিকশার সংখ্যা ২ লাখ ১৩ হাজার, যার মধ্যে ঢাকা দক্ষিণ সিটিতে ১ লাখ ৮২ হাজার এবং উত্তরে ৩০-৩১ হাজার। ২০১৯ সালে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব লেবার স্টাডিজের গবেষণায় রিকশার সংখ্যা ১১ লাখ উল্লেখ করা হলেও, বর্তমানে ই-রিকশার প্রকৃত সংখ্যা অজানা। প্রতিদিন নতুন নতুন রিকশা রাস্তায় নামছে এবং বিভিন্ন সংগঠনের নামে নম্বরপ্লেট ব্যবহারের মাধ্যমে চাঁদাবাজির মতো অভিযোগও উঠছে। গত দেড় দশকে উচ্ছেদ অভিযান ও নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা এলেও রাজনৈতিক ও সামাজিক চাপের মুখে কোনো উদ্যোগই স্থায়ী হয়নি।
নগর পরিকল্পনাবিদ ও ইনস্টিটিউট ফর প্ল্যানিং অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের (আইপিডি) নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক ড. আদিল মুহাম্মদ খান বলেন, ই-রিকশা নিয়ন্ত্রণ করতে হলে সরকারের শক্তিশালী রাজনৈতিক সদিচ্ছা প্রয়োজন। তিনি সতর্ক করেন যে, হকারদের মতো বিকল্প ব্যবস্থা না করে কেবল উচ্ছেদ অভিযান চালালে তা ব্যর্থতায় পর্যবসিত হবে।
যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ ও বুয়েটের নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগের অধ্যাপক ড. মুহা. মোসলেহ উদ্দীন হাসান মনে করেন, প্যাডেলচালিত রিকশা আমাদের সংস্কৃতির অংশ হলেও, ব্যাটারিচালিত থ্রি-হুইলারকে রিকশা হিসেবে গণ্য করে সহানুভূতি পাওয়ার সুযোগ নেই। তিনি একে একটি যান্ত্রিক যান হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, হুটহাট পদক্ষেপ না নিয়ে দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার মাধ্যমে ফুটপাত হাঁটার উপযোগী করা এবং বাস ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা জরুরি।
স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় ও সিটি করপোরেশন সূত্রে জানা গেছে, সমস্যা সমাধানে ঢাকাকে আটটি জোনে ভাগ করে রুট নির্ধারণসহ নতুন একটি নীতিমালা তৈরির কাজ চলছে।





