মহাবিশ্বে সম্পূর্ণ নতুন ধরনের একটি মহাজাগতিক বস্তুর সন্ধান পাওয়ার দাবি করেছেন একদল আন্তর্জাতিক জ্যোতির্বিজ্ঞানী। নাসার জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপে ধারণ করা প্রাচীন মহাবিশ্বের ছবি বিশ্লেষণ করতে গিয়ে গবেষকরা এই রহস্যময় বস্তুটি শনাক্ত করেন। বিজ্ঞানীরা একে ‘ব্ল্যাক হোল স্টার’ বা ‘কৃষ্ণগহ্বর নক্ষত্র’ হিসেবে অভিহিত করছেন। ‘দ্য গার্ডিয়ান’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই বস্তুর নাম দেওয়া হয়েছে ‘এমওএম-বিএইচ*-ওয়ান’। এটি পৃথিবী থেকে কোটি কোটি আলোকবর্ষ দূরে ‘সিটাস’ বা তিমি নক্ষত্রমণ্ডলে অবস্থিত।
গবেষকদের ধারণা, মহাবিস্ফোরণের (বিগ ব্যাং) মাত্র ৬৬ কোটি বছর পর এই বস্তুটি গঠিত হয়েছিল। জেমস ওয়েব টেলিস্কোপের মাধ্যমে মহাবিশ্বের একেবারে শুরুর দিকের অবস্থায় একে দেখা যাচ্ছে। বস্তুটির আকার পুরো সৌরজগতের সমান এবং এটি পরিচিত যেকোনো নক্ষত্রের তুলনায় প্রায় ১০ হাজার কোটি গুণ বেশি শক্তি নির্গত করে। এর শক্তি উৎপাদনের ধরন কোনো প্রচলিত নক্ষত্রের সঙ্গে মেলে না, বরং তা ব্ল্যাক হোলের শক্তির কাছাকাছি।
ইউনিভার্সিটি অব হাওয়াইয়ের গবেষক ড. রোহান নাইডু, যিনি গবেষণাটির নেতৃত্ব দিয়েছেন, জানান যে এটি ব্ল্যাক হোলের মতো শক্তি নির্গত করলেও নক্ষত্রের কিছু বৈশিষ্ট্য বহন করে। বিজ্ঞান সাময়িকী ‘নেচার’-এ প্রকাশিত এই গবেষণায় বলা হয়েছে, জেমস ওয়েব টেলিস্কোপের আর্কাইভের সবচেয়ে লাল বস্তু হিসেবে চিহ্নিত এই ‘এমওএম-বিএইচ*-ওয়ান’-এর আলো একটি নির্দিষ্ট তরঙ্গদৈর্ঘ্যের নিচে গেলে অদৃশ্য হয়ে যায়, যা অন্য কোনো মহাজাগতিক বস্তুর আচরণের সঙ্গে তুলনীয় নয়।
কম্পিউটার সিমুলেশনের মাধ্যমে গবেষকদের ধারণা, এটি কোনো পারমাণবিক সংযোজনকারী নক্ষত্র নয়, বরং একটি ব্ল্যাক হোল যা অত্যন্ত ঘন গ্যাসের মেঘে আবৃত। সেই গ্যাসের আবরণ থেকেই নক্ষত্রের মতো উজ্জ্বল আলো বিচ্ছুরিত হচ্ছে। গবেষকদের মতে, যদি এই ব্যাখ্যা সঠিক হয়, তবে টেলিস্কোপের ছবিতে দৃশ্যমান অনেক ‘লিটল রেড ডট’ বা ছোট লাল বিন্দু আসলে এই ধরনের ‘ব্ল্যাক হোল স্টার’ হতে পারে।
এই আবিষ্কার মহাবিশ্বের প্রাথমিক পর্যায়ের ব্ল্যাক হোল ও গ্যালাক্সির বিবর্তন সম্পর্কে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে পারে। ড. নাইডুর মতে, এই ব্ল্যাক হোল স্টারগুলোই বর্তমান সময়ের সুপারম্যাসিভ ব্ল্যাক হোলের প্রাথমিক বীজ হতে পারে। এগুলো গ্যালাক্সির বিবর্তন এবং নক্ষত্র তৈরির প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখতে পারে। তবে এটি এখনো একটি বৈজ্ঞানিক ধারণা বা সম্ভাব্য নতুন শ্রেণির বস্তু হিসেবে বিবেচিত। এর প্রকৃতি নিশ্চিত করতে আরও পর্যবেক্ষণ ও গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে। ভবিষ্যতে এই ধারণা প্রমাণিত হলে, প্রথম দিকের ব্ল্যাক হোল থেকে কীভাবে সুপারম্যাসিভ ব্ল্যাক হোল তৈরি হয়েছে, সেই দীর্ঘদিনের রহস্যের সমাধান মিলতে পারে।
এর আগে তারা এমওএম-জেড১৪ নামের একটি গ্যালাক্সি শনাক্ত করেন, যা বিগ ব্যাংয়ের মাত্র ২৮ কোটি বছর পর গঠিত হয়েছিল।





