ঢাবির ৬ অধ্যাপককে অব্যাহতি ও সাদেকা হালিমকে বরখাস্তের সিদ্ধান্ত

প্রকাশ:

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়াসহ বিভিন্ন অভিযোগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ড. সাদেকা হালিমকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এছাড়া গণঅভ্যুত্থান কেন্দ্রিক অভিযোগের তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত আওয়ামীপন্থি নীল দলের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত পাঁচজন এবং অনিয়ম ও গবেষণায় চৌর্যবৃত্তির অভিযোগে আরও একজনসহ মোট ছয় অধ্যাপককে সব ধরনের একাডেমিক ও প্রশাসনিক দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, অব্যাহতি পাওয়া শিক্ষকরা হলেন ক্লিনিক্যাল ফার্মেসি অ্যান্ড ফার্মাকোলজি বিভাগের অধ্যাপক মো. আবদুল মুহিত, ফার্মাসিউটিক্যাল টেকনোলজি বিভাগের অধ্যাপক আবু সারা শামসুর রউফ, ফারসি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ বাহাউদ্দিন, পিস অ্যান্ড কনফ্লিক্ট স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক ড. রফিক শাহরিয়ার, নিউক্লিয়ার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক আফরোজা শেলী এবং একই বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. শফিকুল ইসলাম। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তারা ক্লাস গ্রহণ, প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন ও অন্যান্য একাডেমিক কার্যক্রম থেকে বিরত থাকবেন। এর মধ্যে ড. মোহাম্মদ বাহাউদ্দিনের বিরুদ্ধে এমফিল ও পিএইচডি থিসিসে চৌর্যবৃত্তির অভিযোগও রয়েছে।

সভা সূত্রে জানা গেছে, ড. সাদেকা হালিমের বিরুদ্ধে পূর্ববর্তী তদন্ত কমিটির স্থায়ী বহিষ্কারের সুপারিশ বিশ্ববিদ্যালয় ট্রাইব্যুনালে পাঠানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। এখন ট্রাইব্যুনাল তার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে। ২০২২ সালে আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য হওয়া সাদেকা হালিম এ বিষয়ে ট্রাইব্যুনালের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের আগে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। অব্যাহতি পাওয়া অন্য ছয় অধ্যাপকও এ নিয়ে কথা বলেননি।

এদিকে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বিরোধিতার অভিযোগে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এবিএম ওবায়দুল ইসলাম, উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী, উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. আবদুস সালাম এবং সিন্ডিকেট সদস্য অধ্যাপক মোর্শেদ হাসান খান এই কমিটিতে রয়েছেন।

পাশাপাশি বিশ্বব্যাংক ও বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের অর্থায়নে ‘হেকেপ’ প্রকল্পের অর্থ ব্যবহারের সঠিকতা যাচাইয়ে অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানীকে আহ্বায়ক করে আরেকটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এছাড়া অফিস শৃঙ্খলা পরিপন্থি কর্মকাণ্ডের অভিযোগে প্রধান প্রকৌশলীর কার্যালয়ের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (সিভিল) এ কে এম মাহবুব মুস্তাফা পিইঞ্জকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে।

শেয়ার করুন