চার মাস বিরতির পর আজ রোববার থেকে ঢাকা-সিলেট-ম্যানচেস্টার রুটে সরাসরি ফ্লাইট পুনরায় চালু করেছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। এই রুটে পুনরায় বিমান চলাচল শুরু হওয়ায় যুক্তরাজ্যের উত্তরাঞ্চলে বসবাসরত হাজার হাজার প্রবাসী বাংলাদেশি, বিশেষ করে সিলেটবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি পূরণ হলো। ফ্লাইটটি নির্ধারিত যাত্রাবিরতি শেষে দুপুর দেড়টায় ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেছে বলে জানিয়েছেন বিমানের মুখপাত্র বোসরা ইসলাম।
ফ্লাইট চালুর এই বিশেষ মুহূর্তে বিমানবন্দরে যাত্রীদের স্বাগত জানাতে উপস্থিত ছিলেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা এবং প্রধানমন্ত্রীর বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির। এর আগে, রুটটি পুনরায় চালু করার লক্ষ্যে ম্যানচেস্টার বিমানবন্দরে একটি সংক্ষিপ্ত অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সেখানে ম্যানচেস্টারে নিযুক্ত বাংলাদেশের সহকারী হাইকমিশনার, বিমানের উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক, এয়ারলাইন্সের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ফ্লাইটের পাইলট ও কেবিন ক্রু এবং ম্যানচেস্টার বিমানবন্দরের একজন প্রতিনিধি অংশ নেন।
নতুন সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের চার মাসের মধ্যেই এই সেবা চালুর প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করা হলো। এর আগে গত ২৯ জানুয়ারি হুমায়ুন কবির যুক্তরাজ্য বিএনপির নেতাদের সঙ্গে নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে স্মারকলিপি জমা দিয়েছিলেন এবং ৪ ফেব্রুয়ারি ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে এক সংবাদ সম্মেলনে সরকার গঠনের পর এই রুট চালুর ঘোষণা দিয়েছিলেন। দায়িত্ব পাওয়ার পর তিনি বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দেন। হুমায়ুন কবির বলেন, “আমি প্রধানমন্ত্রীকে বুঝিয়েছিলাম, এটি শুধু একটি বিমান সেবা নয়। এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে তাদের পরিবার, সমাজ ও দেশের অর্থনীতির সংযোগকারী একটি গুরুত্বপূর্ণ সেতু। তাই যেকোনো মূল্যে এই রুট চালু রাখতে হবে।”
প্রাথমিকভাবে জাতীয় পতাকাবাহী সংস্থাটি বোয়িং ৭৮৭-৮ ড্রিমলাইনার ব্যবহার করে সপ্তাহে দুটি ফ্লাইট—প্রতি মঙ্গল ও শনিবার—পরিচালনা করবে। উল্লেখ্য, হজ ফ্লাইটে সীমিত সংখ্যক ওয়াইড-বডি উড়োজাহাজ ব্যবহারের প্রয়োজনে এবং বাণিজ্যিকভাবে লাভজনক না হওয়ার অজুহাতে গত ১ মার্চ থেকে এই রুটের ফ্লাইট স্থগিত করা হয়েছিল। ঢাকা-সিলেট-ম্যানচেস্টার ফ্লাইট পুনরায় চালু হওয়ার ফলে প্রবাসীদের যাতায়াত সহজ হওয়ার পাশাপাশি দুই দেশের মধ্যে পারিবারিক, ব্যবসায়িক ও দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও জোরদার হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
তখন এয়ারলাইন্সটি জানায়, ম্যানচেস্টার রুটটি এককভাবে পরিচালনা করা বাণিজ্যিকভাবে লাভজনক নয়। কারণ তাদের বোয়িং ৭৮৭ এবং ৭৭৭ উড়োজাহাজগুলো হজ, ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যের রুটগুলোতেও প্রয়োজন ছিল।





