টানা ভারী বৃষ্টিতে তলিয়ে গেছে চট্টগ্রাম, জনজীবনে চরম দুর্ভোগ

প্রকাশ:

টানা ভারী বৃষ্টিপাতের ফলে চট্টগ্রাম নগরীর বিস্তীর্ণ এলাকা হাঁটু থেকে কোমর সমান পানিতে তলিয়ে গেছে। এই জলাবদ্ধতায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন নগরবাসী। কর্মজীবী মানুষ, শিক্ষার্থী এবং পরীক্ষার্থীরা গন্তব্যে পৌঁছাতে হিমশিম খেয়েছেন, যার ফলে নগরীর অধিকাংশ স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠদান কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। জলাবদ্ধতার কারণে চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণকারী বেশ কিছু উড়োজাহাজ নির্ধারিত সময়ে নামতে পারেনি।

সকাল থেকেই নগরীর বিভিন্ন সড়ক ও গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে তীব্র যানজট দেখা দেয়। গণপরিবহন ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার সংকটে অনেককে প্যান্ট গুটিয়ে ও হাতে জুতা নিয়ে হাঁটুজল পেরিয়ে গন্তব্যে যেতে দেখা গেছে। প্রশাসন জানিয়েছে, এই ভারী বৃষ্টির প্রভাবে চট্টগ্রাম নগরী ও আশপাশের এলাকায় ৩৪টি পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটেছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, হাজার হাজার কোটি টাকার প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হলেও সামান্য বৃষ্টিতেই নগরীর অলিগলি তলিয়ে যায়। চান্দগাঁও এলাকার সাইফুল ইসলাম বলেন, প্রতিবছর বর্ষায় একই দুর্ভোগ পোহাতে হয়। বাকলিয়ার নাসরিন আক্তার জানান, বাসার নিচতলায় পানি ঢুকে পড়ায় আসবাবপত্র সরাতে হয়েছে। আগ্রাবাদের ব্যবসায়ী আবদুল কাদের এবং আকমল আলী রোডের বাসিন্দা আরিফুল ইসলামও তাদের ব্যবসা ও ঘরবাড়িতে পানি ঢুকে পড়ার কথা জানিয়েছেন। মুরাদপুর সুন্নিয়া মাদ্রাসা এলাকার আব্দুর রহিমও একই পরিস্থিতির শিকার হয়ে ঘরবন্দি হয়ে পড়েছেন।

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, মৌসুমি বায়ু সক্রিয় থাকায় চট্টগ্রাম অঞ্চলে আগামী কয়েকদিন আরও বৃষ্টিপাত হতে পারে, যা নিচু এলাকায় জলাবদ্ধতা আরও বাড়াতে পারে। পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিসের তথ্য অনুযায়ী, গতকাল সকাল ৯টা থেকে আজ সকাল ৯টা পর্যন্ত ৩৩০ দশমিক ৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এছাড়া আমবাগান আবহাওয়া অফিসের তথ্যমতে, গত ২৪ ঘণ্টায় ৩৩১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে এবং পরবর্তী দুই থেকে তিন দিন এই আবহাওয়া অব্যাহত থাকতে পারে।

শেয়ার করুন