তিন দশক ধরে অচল বরিশালের ট্রাফিক সিগন্যাল ব্যবস্থা

প্রকাশ:

নব্বইয়ের দশকের মাঝামাঝি সময়ে বরিশাল নগরের ব্যস্ত মোড়গুলোতে ট্রাফিক সিগন্যাল বাতির ঝলকানি ছিল আধুনিকতার প্রতীক। যান চলাচলে শৃঙ্খলা ফেরাতে ১৯৯৫ সালে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি আবদুর রহমান বিশ্বাসের সহায়তায় সাতটি গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে এই আধুনিক সিগন্যাল ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছিল। কিন্তু তিন দশকের ব্যবধানে সেই বাতিগুলোর অস্তিত্ব এখন কেবল প্রবীণদের স্মৃতি আর নতুন প্রজন্মের কাছে রূপকথার গল্প হয়ে দাঁড়িয়েছে।

নগরের সড়ক বিভাগ সূত্রে জানা যায়, ১৯৯৪ সালে বরিশাল শহরের যানজট নিরসনে ২৮টি সিগন্যাল লাইট স্থাপনের মহাপরিকল্পনা নেওয়া হয়েছিল। এর প্রথম ধাপে নথুল্লাবাদ, রূপাতলী, জেলখানা মোড়, কাকলী মোড়, জিলা স্কুল মোড়, সিঅ্যান্ডবি রোডের চৌমাথা এবং লঞ্চঘাট এলাকায় এই ব্যবস্থা চালু হয়। তৎকালীন রাষ্ট্রপতির বিশেষ আগ্রহে শুরু হওয়া এই প্রকল্পটি সাতটি মোড়েই থমকে যায়। রক্ষণাবেক্ষণের অভাব, অব্যবস্থাপনা এবং বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার ফলে একপর্যায়ে সিগন্যালগুলো অকেজো হয়ে পড়ে এবং সময়ের বিবর্তনে খুঁটিগুলোও উপড়ে ফেলা হয়।

গত ৩০ বছরে বরিশালের ভৌগোলিক ও প্রশাসনিক কাঠামোতে ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে। পৌরসভা থেকে ৫৮ বর্গকিলোমিটারের সিটি করপোরেশনে উন্নীত হলেও আধুনিক ট্রাফিক ব্যবস্থা গড়ে ওঠেনি। বরিশাল সাংস্কৃতিক সংগঠন সমন্বয় পরিষদের সাবেক সভাপতি শুভংকর চক্রবর্তী জানান, জনসংখ্যা ও যানবাহনের সংখ্যা জ্যামিতিক হারে বাড়লেও ট্রাফিক ব্যবস্থা মান্ধাতা আমলেই রয়ে গেছে, যা নিত্যদিনের যানজটের মূল কারণ।

জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক আনিচুর রহমান খান স্বপন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আধুনিক মেট্রোপলিটন পুলিশ গঠন হলেও গত ৩০ বছরে ট্রাফিক সিগন্যাল চালুর মতো অতিপ্রয়োজনীয় উদ্যোগ কোনো প্রশাসনই নিতে পারেনি। স্থানীয় বাসিন্দা সুব্রত পাল বাপ্পী তিন দশক আগের শৃঙ্খলিত সড়কের স্মৃতিচারণ করে বলেন, আগে সিগন্যাল মেনে চলাচলের যে স্বতঃস্ফূর্ত শৃঙ্খলা ছিল, এখন সেখানে ট্রাফিক পুলিশের ইশারার বিশৃঙ্খলা ছাড়া আর কিছুই নেই।

তবে বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রশাসক বিলকিস আক্তার জাহান শিরিন নতুন আশার কথা শুনিয়েছেন। তিনি জানান, যানজট ও দুর্ঘটনা নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে ওভারব্রিজ নির্মাণের প্রস্তাব স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে এবং আধুনিক ট্রাফিক সিগন্যাল ব্যবস্থা পুনরায় চালুর বিষয়টিও প্রশাসনের বিবেচনায় আছে। তবে আর্থিক সংকটের কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, সরকারি বরাদ্দ বা দেশি-বিদেশি সহায়তা পেলে খুব দ্রুতই স্বয়ংক্রিয় ট্রাফিক সিগন্যাল ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে।

বরিশাল সাংস্কৃতিক সংগঠন সমন্বয় পরিষদের সাবেক সভাপতি শুভংকর চক্রবর্তী বলেন, “এক সময়ের মাত্র ২৪ দশমিক ৯১ বর্গকিলোমিটারের পৌরসভা এখন ৫৮ বর্গকিলোমিটারের বিশাল সিটি করপোরেশনে উন্নীত হয়েছে। জনসংখ্যা ও যানবাহনের সংখ্যা বেড়েছে জ্যামিতিক হারে। কিন্তু ট্রাফিক ব্যবস্থা আধুনিক না করে আমরা পড়ে আছি সেই মান্ধাতা আমলেই। ফলে যানজট

শেয়ার করুন