ভারতের সঙ্গে সম্মানজনক, ভবিষ্যতমুখী এবং পারস্পরিকভাবে শ্রদ্ধাপূর্ণ ও লাভজনক অংশীদারত্ব গড়ে তুলতে বাংলাদেশ বিশেষ আগ্রহী বলে জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। মঙ্গলবার সকালে বঙ্গভবনে বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর সৌজন্য সাক্ষাতের সময় তিনি এ কথা বলেন।
রাষ্ট্রপতির প্রেস উইং জানায়, সাক্ষাতের সময় রাষ্ট্রপতি ভারতের হাইকমিশনারকে বলেছেন, পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো যদি ন্যায়সঙ্গত ও গ্রহণযোগ্য উপায়ে সমাধান করা যায়, তবে দুই দেশের জনগণের মধ্যে আস্থা ও বিশ্বাস আরও সুদৃঢ় হবে। বিশেষ করে অভিন্ন নদ-নদীর পানি ব্যবস্থাপনা দুই দেশের মানুষের জীবন ও জীবিকার সঙ্গে সরাসরি জড়িত উল্লেখ করে তিনি গঙ্গা ও তিস্তাসহ অভিন্ন নদীর পানির ন্যায্য বণ্টনের জন্য ভারতের প্রতি কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানান।
জবাবে ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী রাষ্ট্রপতিকে আশ্বস্ত করে জানান, তার সরকারের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে ইতিবাচক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে। হাইকমিশনার এ সময় রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের জন্য মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানান এবং ভারতের রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর শুভেচ্ছা বার্তা পৌঁছে দেন।
হাইকমিশনার আরও বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্ককে ভারত অত্যন্ত গুরুত্ব দেয়। পারস্পরিক মর্যাদা, আস্থা ও সহযোগিতার ভিত্তিতে এই সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী ও উন্নত করতে ভারত প্রবল আগ্রহী। তিনি দুই দেশের জনগণের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্কসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা সম্প্রসারণে তার দেশের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।
রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, বাণিজ্য, প্রযুক্তি, পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনা, যোগাযোগ ও সংস্কৃতির মতো বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতার বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে। দুই দেশের জনগণের সক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে শান্তি ও সমৃদ্ধি অর্জনে ভারত ও বাংলাদেশ আরও ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে পারে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
ভারতের হাইকমিশনার তার দায়িত্ব পালনে রাষ্ট্রপতির সহযোগিতা কামনা করেন। রাষ্ট্রপতি হাইকমিশনারের সফল কর্মকাল কামনা করে আশা প্রকাশ করেন যে, তার এই মেয়াদ দুই দেশের সম্পর্ককে আরও ফলপ্রসূ ও জনকল্যাণমুখী করতে সহায়ক হবে। সাক্ষাতের সময় রাষ্ট্রপতির কার্যালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং ভারতীয় হাইকমিশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।





