তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী আন্দালিভ রহমান পার্থ জানিয়েছেন, বাংলাদেশ বর্তমানে অত্যন্ত সংবেদনশীল একটি সময় পার করছে। মঙ্গলবার সচিবালয়ে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই মন্তব্য করেন। মন্ত্রী বলেন, দীর্ঘ সময়ের পর সরকার যে দায়িত্ব পেয়েছে, তা বাংলাদেশের ইতিহাসের অন্যতম কঠিন সময়। রাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রশাসনিক ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সিস্টেম হ্যাজ বিন ক্রাপটেড। বর্তমান আমলাতন্ত্রকে নিয়েই সরকারকে কাজ করতে হচ্ছে, যা রাতারাতি পরিবর্তন করা সম্ভব নয়।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও কিশোরগঞ্জে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে স্থানীয় আলেম-ওলামাদের বাধার বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তথ্যমন্ত্রী বলেন, কনসার্ট বাতিল হওয়া মানেই সরকারের অসহযোগিতা নয়। অনেক সময় নিরাপত্তাঝুঁকির কারণে এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেয়া হতে পারে। তিনি স্পষ্ট করেন যে, সরকারের কোনো সাংস্কৃতিক কার্যক্রমে বাধা দেয়ার মানসিকতা নেই। গত ৪০-৫০ বছর ধরে এ ধরনের ঘটনা বিভিন্ন সময় ঘটছে, তাই এটি নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই। তিনি বলেন, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে আমাদের মধ্যে সাংস্কৃতিক সহাবস্থান রয়েছে। আইন তার নিজস্ব গতিতে চলবে এবং আইন অনুযায়ীই ব্যবস্থা নেয়া হবে।
গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে মন্ত্রী বলেন, গণতন্ত্র মানসিকতার বিষয়। সরকার কাউকে নিয়ন্ত্রণ বা কারো মুখ বন্ধ করতে চায় না। তিনি বলেন, গত ছয় মাসে সরকার বা প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে গণমাধ্যমকে কোনো নির্দিষ্ট সংবাদ প্রকাশের নির্দেশনা দেয়া হয়নি। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, আপনারা যখনই নিউজ করবেন, অবশ্যই আপনাদের নিউজ করবেন। আমরা আপনাদের নিউজ ডিকটেট করার অবস্থানে নেই। তবে দেশের বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় বস্তুনিষ্ঠ সমালোচনার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সাড়ে চার হাজার ইউনিয়নের ৩৬ হাজার ওয়ার্ডের ছোটখাটো ঘটনাকে বড় করে দেখলে মানুষের মধ্যে ভুল বার্তা যেতে পারে।
প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, ৫ আগস্ট-পরবর্তী সময়ে বর্তমান সরকারের অধীনে সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে নাটকীয় অগ্রগতি হয়েছে। সরকার সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড সারাদেশে ছড়িয়ে দিতে গুরুত্ব দিচ্ছে এবং এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর সাথে নিয়মিত বৈঠক হচ্ছে। তিনি বলেন, সাংস্কৃতিক চর্চা বাড়াতে প্রধানমন্ত্রীর মতো মনোযোগী নেতৃত্ব বাংলাদেশ আগে পেয়েছে কি না, তা নিয়ে সন্দেহ আছে।
ভারত থেকে শেখ হাসিনাকে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে তথ্যমন্ত্রী বলেন, যাদের বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে এবং যারা অভিযুক্ত, তাদের সবাইকে ফিরিয়ে এনে বিচারের আওতায় আনা সরকারের লক্ষ্য। ভারতের আদালতের মাধ্যমে বিষয়টি এগিয়ে নেয়ার সম্ভাবনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এ ধরনের সংবাদ বাংলাদেশের জন্য খুব একটা শুভকর নয়।
তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী বলেন, গত ছয় মাসে গোয়েন্দা সংস্থার পক্ষ থেকে কোনো গণমাধ্যমে ফোন করা হয়নি, যা বর্তমান সরকারের গণমাধ্যমবান্ধব মনোভাবের প্রমাণ। তিনি জানান, বিটিভি ও সংসদ টিভিসহ সরকারি টেলিভিশনগুলোতে এখন থেকে সরকারি দলের পাশাপাশি বিরোধী দলের সদস্যদের খবরও আনুপাতিক হারে প্রচারের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। তিনি বলেন, এটাই গণতন্ত্র। প্রতিমন্ত্রী গণমাধ্যমকে সরকারের ইতিবাচক কর্মকাণ্ড তুলে ধরার আহ্বান জানিয়ে বলেন, পজিটিভ নিউজ করলে সরকার আরও ভালো কাজ করার অনুপ্রেরণা পাবে।





