দুদকের বিরুদ্ধে মানহানির মামলার হুমকি দিলেন আসিফ মাহমুদ

প্রকাশ:

সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগের বিষয়ে মুখ খুলেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া। বুধবার রাতে রাজধানীর বাংলামোটরে এনসিপির অস্থায়ী কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি দাবি করেন, তাঁকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ফাঁসানোর চেষ্টা করা হচ্ছে এবং অভিযোগসংশ্লিষ্ট কোনো ঘটনার সঙ্গেই তিনি ব্যক্তিগতভাবে জড়িত নন।

সংবাদ সম্মেলনে আসিফ মাহমুদ জানান, দুদক ৩৮ জন উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার চলতি দায়িত্ব বাতিল ও পদায়নের ক্ষেত্রে ৭৬ লাখ টাকা এবং ১৫০ জনকে পদোন্নতি দেওয়ার ক্ষেত্রে ২ কোটি টাকা—সর্বমোট ২ কোটি ৭৬ লাখ টাকা দুর্নীতির অভিযোগ তুলেছে। এই দুটি অভিযোগে তাঁকে এবং তৎকালীন ও বর্তমান যুব ও ক্রীড়া সচিব, একজন যুগ্ম সচিব ও একজন উপসচিবকে দায়ী করা হয়েছে। তিনি দাবি করেন, এই প্রক্রিয়ায় তাঁর সরাসরি সম্পৃক্ততার কোনো সুযোগ ছিল না, কারণ এসব আদেশের সাইনিং অথরিটি বা স্বাক্ষরকারী ছিলেন সচিব।

৭৬ লাখ টাকার দুর্নীতির অভিযোগের ব্যাখ্যায় তিনি জানান, ২০২১ সালে নিয়মবহির্ভূতভাবে ১১২ জন দশম গ্রেডের সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তাকে পদোন্নতি না দিয়ে নবম গ্রেডের উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা পদে চলতি দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। ২০২৫ সাল পর্যন্ত তাঁরা ওই পদে বহাল ছিলেন। প্রচলিত বিধি অনুযায়ী কোনো ব্যক্তিকে চলতি দায়িত্বের ছয় মাসের বেশি রাখা যায় না। ২০২১ সালের ওই আদেশ নিয়মবহির্ভূত হওয়ায় পরে তা চ্যালেঞ্জ করে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে ২০২৫ সালে আদালত ওই আদেশ অবৈধ ঘোষণা করেন। আদালতের রায়ের সময় ১১২ জনের মধ্যে ৩৮ জন দায়িত্বে বহাল ছিলেন, অন্যরা অবসরে চলে গিয়েছিলেন অথবা নিয়মিত পদোন্নতি পেয়েছিলেন। আদালতের রায় বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে মূলত ওই ৩৮ জনের চলতি দায়িত্ব বাতিল করে নবম গ্রেড থেকে নামিয়ে তাঁদের মূল পদে (দশম গ্রেড) আবার প্রত্যাবর্তন করানো হয়। কিন্তু দুদকের অভিযোগে বিষয়টি সম্পূর্ণ উল্টোভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে।

পদোন্নতির অভিযোগ প্রসঙ্গে আসিফ মাহমুদ বলেন, ৩৮ জনকে অপসারণের পর শূন্য পদ তৈরি হয়েছিল। এছাড়া বিভিন্ন সময়ে শূন্য হওয়া সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার মোট ১৮২টি শূন্য পদে পদোন্নতির জন্য পিএসসির মতামত চাওয়া হয়। অভিযোগে ১৫০টি পদের কথা বলা হলেও আসলে ১৮২টি পদে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছিল। মন্ত্রণালয় জ্যেষ্ঠতার তালিকা ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের চাকরির রেকর্ড, এসিআর, বিভাগীয় মামলা বা শাস্তিমূলক কোনো বিষয়সহ প্রাসঙ্গিক তথ্য পিএসসিতে পাঠায়। পিএসসি এসব তথ্য যাচাই-বাছাই ও পর্যালোচনা করে পদোন্নতি দেয়। তিনি বলেন, সুপারিশ লঙ্ঘন করে যদি ৬০০ বা ৭০০ নম্বর থেকে কাউকে এনে পদোন্নতি দেওয়া হতো, তাহলে দুর্নীতির অভিযোগ করা যেত। তিনি প্রশ্ন তোলেন, দুদক পিএসসির ওপরও তদন্ত করবে কি না।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও উল্লেখ করেন, জেলা পর্যায়ের যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার পদায়ন বা পদোন্নতির বিষয়গুলো দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী বা উপদেষ্টার পর্যায়ে নিষ্পত্তিযোগ্য হলেও উপজেলা সহকারী যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার বিষয়টি সচিব পর্যায়ে নিষ্পত্তি হয়। এছাড়া উপদেষ্টা আসিফ ভুঁইয়ার কুমিল্লাপ্রীতি ও ২৪০০ কোটি টাকার প্রকল্পের বিষয়টিও আলোচনায় আসে।

দুদকের সমালোচনা করে আসিফ মাহমুদ বলেন, বুধবার বিকেলে দুদকের উপপরিচালক আকতারুল ইসলাম অভিযোগের ‘প্রাথমিক সত্যতা’ পাওয়ার কথা বললেও পরে সেই বক্তব্য থেকে সরে আসেন। তিনি অভিযোগ করেন, ওই কর্মকর্তা সাংবাদিকদের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে জানিয়েছেন যে মুখ ফসকে সত্যতা পাওয়ার কথাটি বেরিয়ে গিয়েছিল। আসিফ মাহমুদ দুদককে উদ্দেশ্য করে বলেন, 'আমি দুদকের প্রতি আহ্বান জানাব, আমার যে মানহানি করা হয়েছে, সেটার জন্য ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অ্যাপোলজি (ক্ষমা প্রার্থনা) করবেন এবং আপনাদের বরাত দিয়ে যে খবরগুলো প্রকাশিত হয়েছে, সেগুলো প্রত্যাহার করবেন। অন্যথায় আমি আইনি পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হব, মানহানির মামলা করতে বাধ্য হব।'

সাবেক এই উপদেষ্টা আরও বলেন, তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আহ্বান জানান যেন অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে পদায়ন ও পদোন্নতি সংক্রান্ত ফাইল ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া যথাযথভাবে যাচাই করা হয়। সত্যতা উদঘাটনের স্বার্থে সব ধরণের তথ্য ও নথি যাচাইয়ে তিনি সর্বাত্মক সহযোগিতা করতে প্রস্তুত বলেও সংবাদ সম্মেলনে উল্লেখ করেন।

শেয়ার করুন