সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার নলকা ইউনিয়নের তিননান্দিনা এলাকায় ফুলজোড় নদীর ওপর আজও কোনো স্থায়ী সেতু নির্মিত হয়নি। সেতু না থাকায় তিননান্দিনা, আলমপুর, চর ফরিদপুর ও দাতপুরসহ আশপাশের বেশ কয়েকটি গ্রামের হাজারো মানুষ যোগাযোগের জন্য চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। নদী পারাপারের একমাত্র মাধ্যম হিসেবে এলাকাবাসীকে এখনো ঝুঁকি পূর্ণ খেয়া নৌকার ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে।
প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এই নদী পার হতে হচ্ছে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কৃষক ও সাধারণ মানুষকে। বিশেষ করে স্কুল ও কলেজের শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি সবচেয়ে বেশি। প্রতিদিন সকালে খেয়াঘাটে নৌকার জন্য তাদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়, যার ফলে অনেক সময় বিদ্যালয়ের ক্লাস ধরতে তাদের দেরি হয়ে যায়। তিননান্দিনা হাইস্কুলের সাবেক প্রধান শিক্ষক এনামুল হক মাস্টার জানান, বর্ষাকালে নদীতে পানির উচ্চতা ও স্রোত বেড়ে গেলে পারাপার অত্যন্ত বিপদজনক হয়ে ওঠে। ঝড়-বৃষ্টি ও বৈরী আবহাওয়ার মধ্যেও দুই পাড়ের মানুষকে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করতে হয়।
সেতু না থাকার কারণে স্থানীয়দের কৃষিপণ্য পরিবহন, চিকিৎসাসেবা গ্রহণ ও ব্যবসা-বাণিজ্য মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। দীর্ঘদিনের এই জনদুর্ভোগের বিষয়ে রায়গঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী মো. ফজলুল রহমান তালুকদার জানান, সমস্যাটি নিরসনে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরে (এলজিইডি) ২৪০ মিটার দীর্ঘ একটি সেতুর প্রস্তাবনা (সিআইবিআর প্রজেক্ট) ইতোমধ্যে পাঠানো হয়েছে। সেতুটি অনুমোদিত ও নির্মিত হলে ওই এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।





