নির্বাচন পর্যবেক্ষণসংক্রান্ত প্রাপ্ত সুপারিশগুলো নিবিড়ভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও আলোচনার মাধ্যমে স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণের উদ্যোগ নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। বুধবার রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত দুই দিনব্যাপী এক সংলাপে নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, সব সুপারিশ পর্যালোচনা করে আগামী নির্বাচনগুলোতে সংস্কারের বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দিয়ে তা বাস্তবায়নের সর্বাত্মক চেষ্টা করা হবে।
সংলাপের উদ্বোধনী বক্তব্যে ইসি আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ আরও জানান, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে ও পরে বিভিন্ন অবজার গ্রুপ এবং অংশীজনদের কাছ থেকে মতামত নেওয়া হয়েছে। গণতন্ত্রের উত্তরণে এটি একটি চলমান প্রক্রিয়া। নির্বাচনের পরে প্রাপ্ত সুপারিশগুলো মূল্যায়ন করা হচ্ছে যাতে ধারাবাহিকতা বজায় রাখা যায়। সামনে স্থানীয় সরকার নির্বাচন রয়েছে, যেখানে সবার সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।
ইউরোপীয় ইউনিয়ন, আনফ্রেল ও কমনওয়েলথসহ দেশি-বিদেশি বিভিন্ন সংস্থার পর্যবেক্ষণের ধারাবাহিকতায় এই সংলাপের আয়োজন করা হয়েছে। ইউরোপিয়ান পার্টনারশিপ ফর ডেমোক্রেসি (ইপিডি) এবং ইন্টারন্যাশনাল ফাউন্ডেশন ফর ইলেকটোরাল সিস্টেমের (আইএফইএস) যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই সংলাপে স্থানীয় পর্যবেক্ষক, সিভিল সোসাইটির প্রতিনিধি এবং নির্বাচন কর্মকর্তাসহ অর্ধশতাধিক ব্যক্তি অংশ নিয়েছেন।
অনুষ্ঠানে ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার বলেন, তাদের পর্যবেক্ষক দল ইতোমধ্যে ১৯টি সুনির্দিষ্ট সুপারিশ প্রদান করেছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই কর্মশালার মাধ্যমে আরও সুপারিশ উঠে আসবে এবং নির্বাচন কমিশন অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সেগুলো কাজে লাগাবে। তিনি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় অংশীজনদের ভূমিকার প্রশংসা করেন।
উল্লেখ্য, গত ফেব্রুয়ারি মাসে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর থেকেই ইসি স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রস্তুতি গ্রহণ করছে এবং বিধি সংস্কারের লক্ষ্যে মতামত নিচ্ছে। দুই দিনব্যাপী এই সংলাপের বিভিন্ন সেশনে নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ, তাহমিদা আহমদ, মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ এবং ইসি সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ উপস্থিত থাকবেন।
প্রকাশ : ০৮ জুলাই ২০২৬, ১৪: ৫৬আপডেট : ০৮ জুলাই ২০২৬, ১৫: ০৯





