মাগুরার আট বছরের এক শিশুকে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি হিটু শেখের ডেথ রেফারেন্স ও আপিল শুনানি সম্পন্ন হয়েছে। হাইকোর্টের বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ শুনানি শেষে রায় ঘোষণার জন্য মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) দিন ধার্য করেছেন।
এর আগে, গত ২৩ আগস্ট আদালতে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী হাফিজুর রহমান খান মৃত্যুদণ্ড পাওয়া আসামি হিটু শেখের ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের ওপর অগ্রাধিকার ভিত্তিতে শুনানি করেন। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে অংশ নেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ইমাম হোসেন তারেক। গত ১১ আগস্ট থেকে এই বেঞ্চে শুনানি শুরু হয়েছিল, যেখানে রাষ্ট্রপক্ষে আরও সহায়তা করেন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল রোহানী সিদ্দীকা ও মাহবুবা তাসনিম আঁখি।
ঘটনার বিবরণে জানা যায়, ২০২৫ সালের মার্চ মাসের শুরুতে মাগুরার নিজনান্দুয়ালী গ্রামে বোনের শ্বশুরবাড়ি বেড়াতে গিয়ে শিশুটি ধর্ষণ ও নির্যাতনের শিকার হয়। গুরুতর অবস্থায় তাকে প্রথমে মাগুরা ও ফরিদপুরের হাসপাতালে নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং পরবর্তীতে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৩ মার্চ শিশুটি মারা যায়।
ফৌজদারি কার্যবিধি অনুযায়ী, বিচারিক আদালতে মৃত্যুদণ্ডাদেশের পর অনুমোদনের জন্য মামলার নথিপত্র উচ্চ আদালতে পাঠাতে হয়। সেই প্রক্রিয়া অনুসরণ করে গত বছরের ২১ মে মামলার নথিপত্র উচ্চ আদালতে পাঠানো হয় এবং পরবর্তীতে পেপারবুক তৈরির জন্য বিজি প্রেসে পাঠানো হয়েছিল। এছাড়া, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের মামলাগুলো অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নিষ্পত্তির লক্ষ্যে প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী ২০২৬ সালের ১০ জুন একটি বিশেষ হাইকোর্ট বেঞ্চ গঠন করেন। এই বেঞ্চে মামলা পরিচালনার জন্য অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজলের নেতৃত্বে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীদের একটি বিশেষ দল গঠন করা হয়। এই দলের অন্য সদস্যরা হলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ ইমাম হোসেন তারেক ও সৈয়দ ইজাজ কবির। সেই সঙ্গে আছেন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবা তাসনিম আঁখি, মুস্তাফিজুর রহমান মুকুল, আশরাফুল আলম, রোহানী সিদ্দীকা ও আল আমীন সিদ্দিকী।





