বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহ্বান জানালেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন

প্রকাশ:

নবনিযুক্ত স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খানের সঙ্গে সচিবালয়ে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন। বৈঠকে দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ের পাশাপাশি সরকারি নীতি, দেশের বর্তমান পরিস্থিতি এবং আগামী ছয় মাসে নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়নে সরকারের অগ্রগতির বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।

এলজিআরডি প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম জানান, বৈঠকে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার সহযোগিতা জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। বিশেষ করে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার উন্নয়ন, নাগরিক সেবার মানোন্নয়ন এবং টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের স্থানীয় সরকার অবকাঠামো, পানি ও পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং পরিবেশবান্ধব জ্বালানি খাতে মার্কিন বিনিয়োগকে বাংলাদেশ স্বাগত জানাবে। এ সময় বাংলাদেশে আরও বিনিয়োগের জন্য রাষ্ট্রদূতের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।

বৈঠকে পানি ব্যবস্থাপনার বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পায়। বাংলাদেশের নগর ও গ্রামীণ এলাকায় নিরাপদ পানি সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং ভবিষ্যৎ চাহিদা বিবেচনায় টেকসই অবকাঠামো গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনা হয়। এছাড়া দ্রুত নগরায়নের ফলে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব পদ্ধতি গ্রহণের বিষয়েও মতবিনিময় হয়েছে। নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে সৌরবিদ্যুৎসহ পরিবেশবান্ধব জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানো এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় উভয় পক্ষ আগ্রহ প্রকাশ করেছে।

প্রতিমন্ত্রী জানান, স্থানীয় পর্যায়ে জনগণের জীবনমান উন্নয়নে সরকারের বিভিন্ন কর্মসূচি এবং দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে নাগরিক সেবা পৌঁছে দেওয়ার বিষয়ে রাষ্ট্রদূতের কাছে সরকারের অগ্রাধিকার তুলে ধরা হয়েছে। এ সময় মার্কিন রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশের বিভিন্ন সামাজিক উন্নয়ন কর্মসূচির প্রশংসা করেন। বিশেষ করে স্কুল শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিনামূল্যে ব্যাগ বিতরণ এবং স্কুল ফিডিং কার্যক্রমের ভূয়সী প্রশংসা করে তিনি বলেন, এসব উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়মুখী করা, শিক্ষায় অংশগ্রহণ বাড়ানো এবং ঝরে পড়ার হার কমাতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে।

মীর শাহে আলম আরও বলেন, বাংলাদেশের উন্নয়ন যাত্রায় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ ও পারস্পরিক স্বার্থভিত্তিক সম্পর্ক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিনিয়োগ, প্রযুক্তি, পানি ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনার মতো খাতে সহযোগিতা বৃদ্ধি বাংলাদেশের টেকসই উন্নয়নে সহায়ক হবে। সরকারের পক্ষ থেকে স্থানীয় সরকার খাতের অবকাঠামো উন্নয়ন ও পরিবেশবান্ধব উন্নয়ন নিশ্চিত করার যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, তাতে আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সম্পৃক্ততা গুরুত্বপূর্ণ বলে বৈঠকে আলোচনা হয়।

শেয়ার করুন