যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে একের পর এক অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপের মধ্য দিয়ে তেহরান যে কঠিন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, তা প্রকাশ্যে স্বীকার করেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। রোববার (২৩ আগস্ট) রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে সম্প্রচারিত এক ভাষণে তিনি বলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে পূর্ণমাত্রার অর্থনৈতিক, সামরিক ও নিরাপত্তা যুদ্ধে ঠেলে দিয়েছেন। পেজেশকিয়ান দেশের বর্তমান পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে বলেন, আমি বুঝতে পারছি আমাদের সমাজে এখন অনেক সমস্যা রয়েছে। তবে সরকার এসব সমস্যা প্রতিরোধের জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
প্রেসিডেন্ট আরও জানান, মূল্যস্ফীতি, বেকারত্ব এবং জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির মতো সমস্যাগুলো কাটিয়ে উঠতে সরকার কাজ করছে, যাতে সাধারণ মানুষ মর্যাদা ও আত্মসম্মানের সঙ্গে জীবনযাপন করতে পারেন। অর্থনৈতিক সংকটকে কেন্দ্র করে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইরানে একাধিকবার বড় ধরনের বিক্ষোভ হয়েছে। বিশেষ করে মূল্যস্ফীতি এবং মুদ্রার বিনিময়মূল্যের অস্থিরতা মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমিয়ে দিয়েছে। গত বছরের ডিসেম্বরের শেষে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদে শুরু হওয়া আন্দোলন পরে সরকারবিরোধী বিক্ষোভে রূপ নেয়। সেই সময় ইরানি কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে ৩ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়, যার জন্য তারা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলকে দায়ী করেছিল। তবে বিদেশভিত্তিক এনজিওগুলোর দাবি, নিহতের সংখ্যা আরও অনেক বেশি।
এদিকে গার্ডিয়ানের প্রতিবেদন অনুযায়ী, পেজেশকিয়ানের এই বক্তব্যের একদিন পরই মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট ইরানের বিরুদ্ধে ইতিহাসের সবচেয়ে কঠোর নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করতে পারেন। এই নতুন পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের কট্টরপন্থী নেতা মোহসেন রেজাই হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তিনি রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের এই অর্থনৈতিক যুদ্ধে যদি উপসাগরীয় অঞ্চলের কোনো দেশ সহযোগিতা করে, তবে তাদের শত্রু হিসেবে বিবেচনা করা হবে। তিনি আরও হুমকি দিয়ে বলেন, হরমুজ প্রণালির বিকল্প হিসেবে ব্যবহৃত তেল পরিবহন রুটগুলোতে হামলা চালানো হতে পারে এবং এমন দেশগুলোর স্বার্থে আঘাত করা হবে।





