বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফরের সম্ভাবনা নিয়ে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কোনো স্পষ্ট মন্তব্য করেনি। সফরটি নিয়ে জানতে চাওয়া হলে মন্ত্রণালয় কার্যত নীরবই থেকেছে। ভারতের টেলিগ্রাফ পত্রিকার প্রতিবেদন অনুযায়ী, ঢাকা শর্ত জুড়ে দেয়ার পর এটিই নয়াদিল্লির প্রথম প্রতিক্রিয়া, তবে তারা সরাসরি কোনো মন্তব্য করা থেকে বিরত রয়েছে।
মঙ্গলবার ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে বলেন, পারস্পরিক স্বার্থ ও পারস্পরিকতার ভিত্তিতে বাংলাদেশের সঙ্গে ইতিবাচক, গঠনমূলক ও ভবিষ্যতমুখী সম্পর্ক গড়ে তুলতে ভারত আগ্রহী। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীর সফরের জন্য শর্ত জুড়ে দেয়ার পর এটিই নয়াদিল্লির প্রথম আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া। এদিকে দ্য স্টেটসম্যানের খবরে বলা হয়েছে, ভারত এই সম্পর্ক নিয়ে আশাবাদী। তবে বিভিন্ন প্রতিবেদনে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে যে, তারেক রহমান শিগগিরই দ্বিপক্ষীয় সফরে ভারতে নাও আসতে পারেন, এমনকি ১২-১৩ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠেয় ব্রিকস নেতাদের সম্মেলনেও তার অংশগ্রহণ অনিশ্চিত।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণের বিষয়ে বাংলাদেশের অনুরোধের বিষয়ে জয়সওয়াল জানিয়েছেন, এটি প্রতিষ্ঠিত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পরীক্ষা করা হচ্ছে। বাংলাদেশের অতিরিক্ত জ্বালানি সরবরাহের অনুরোধের বিষয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে চলমান জ্বালানি সহযোগিতা রয়েছে এবং নতুন অনুরোধের বিষয়টি তাদের নিজেদের চাহিদা, পরিশোধন সক্ষমতা ও জ্বালানির প্রাপ্যতার ভিত্তিতে পরীক্ষা করা হচ্ছে।
হিন্দুস্তান টাইমসের খবরে উল্লেখ করা হয়েছে, তারেক রহমানের ভারত সফর এখনও অনিশ্চিত এবং ঢাকা থেকেও আমন্ত্রণ গ্রহণের কোনো স্পষ্ট ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি। বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে ভারত প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে ‘পারস্পরিকতা’ নীতির কথা উল্লেখ করল। ঢাকায় শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণের দাবি পুনর্ব্যক্ত করার মাত্র দুই দিন পরই নয়াদিল্লি তাদের অবস্থান তুলে ধরল। মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল আবারও স্পষ্ট করেছেন যে, শেখ হাসিনাসহ অন্যদের প্রত্যর্পণের অনুরোধগুলো ভারতের প্রতিষ্ঠিত আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই বিবেচনা করা হচ্ছে।





