সায়দাবাদ আন্তঃজেলা ও নগর বাস টার্মিনালে আ.লীগের দোসর সুবা ও সেলিম সরোয়ারের দাপট

প্রকাশ:

নিজস্ব প্রতিবেদক:
গত ১৮ জানুয়ারি ২০২৩ সালে শ্রম অধিদপ্তর কর্তৃক জারিকৃত ঢাকা মহানগর সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের (রেজি নং- ঢাকা-২১৯৫) সত্যায়িত তালিকায় দেখা যায়, ২০২২ সালের ১২ ডিসেম্বরে সায়দাবাদ আন্তঃজেলা ও নগর বাস টার্মিনালের সভাপতি হিসেবে ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি মোহাম্মদ আলী সুবা এবং সাধারণ সম্পাদক হিসেবে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ শ্রমিক লীগের সভাপতি কাজী সেলিম সরোয়ারকে নির্বাচিত করা হয়।

বিগত ১৭ বছর ধরে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের প্রত্যক্ষ ছত্রছায়ায় সুবা ও সেলিম সরোয়ার সিন্ডিকেট গোটা সায়দাবাদ আন্তঃজেলা ও নগর বাস টার্মিনালকে অনিয়ম, অবৈধ চাঁদাবাজি এবং ভয়াবহ মাদক কারবারের আস্তানা ও সুরক্ষিত ঘাঁটিতে পরিণত করে রেখেছিল। এই সুবা কেবল দলীয় সুবিধাবাদীই নন, তিনি জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ছাত্র-জনতাকে নির্মমভাবে হত্যার ঘটনার একাধিক মামলার এজাহারভুক্ত আসামি। অত্যন্ত বিস্ময়কর বিষয় হলো গত ২০২৪ সালের ৫ আগস্টে ছাত্র-জনতার ত্যাগের মুখে শেখ হাসিনা সরকারের পতন ঘটলেও সায়দাবাদ টার্মিনালে এই ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের দোসরদের পুরোনো প্রভাব এবং ক্ষমতার দাপট বিন্দুমাত্র কমেনি।

সুবা ও সেলিম সরোয়ার গং এখনও নিজেদের সায়দাবাদ টার্মিনালের সর্বেসর্বা মনে করে সেই পুরোনো স্বৈরাচারী কায়দায় ক্ষমতা ও রাজত্ব দেখিয়ে চলছেন। ফ্যাসিবাদী সরকারের আমলে ঘোষিত এবং বর্তমানে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের সময়ের সেই বিতর্কিত কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবেই তারা এখনও সায়দাবাদে আধিপত্য দাবি করছেন। অথচ অনুসন্ধানে জানা যায়, সায়দাবাদ আন্তঃজেলা ও নগর বাস টার্মিনাল ও পরিবহন শ্রমিকদের কল্যাণে বাস্তবে তাদের কোনো বৈধ সম্পৃক্ততা নেই। স্থানীয় সূত্রে ও অনুসন্ধানে আরও চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে যে, এই চিহ্নিত আওয়ামী দোসর ও হত্যা মামলার আসামিদের নতুন করে পুনর্বাসিত করতে এবং টার্মিনালে তাদের অবস্থান শক্ত রাখতে নেপথ্যে মদদ দিয়ে যাচ্ছেন জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপির) নামধারী কিছু সুবিধাবাদী নেতা। বিশেষ করে মোহাম্মদ আলমগীর হোসেন এবং মিজানুর রহমান মিজান ওরফে মিজান ভান্ডারীর বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগের এই ক্যাডারদের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সহায়তা করার তীব্র অভিযোগ পাওয়া গেছে। আলমগীর হোসেন এবং মিজান ভান্ডারী বর্তমানে সায়দাবাদ আন্তঃজেলা ও নগর বাস টার্মিনালের (রেজি নং- ঢাকা-২১৯৫) সভাপতি ও সাধারন সম্পাদক হিসেবে দাবি করে চাঁদাবাজি ও মাদকের আখড়ায় পরিনত করেছে আলোচিত এই টার্মিনালটি।


তাদের এই অনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতার কারণে গণহত্যা ও চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত অপরাধীরা আবারও প্রকাশ্যে দাপিয়ে বেড়ানোর দুঃসাহস পাচ্ছে। অভিযোগের বিষয়ে জানতে আলমগীর হোসেন ও মিজান ভান্ডারীর মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

সায়দাবাদ বাস টার্মিনালকে অবৈধ চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস ও মাদকমুক্ত করে সাধারণ শ্রমিকদের নিরাপত্তা ফিরিয়ে আনতে এখন ফুসে উঠেছে স্থানীয় সচেতন মহল ও সাধারণ পরিবহন কর্মীরা। তারা জোর দাবি জানিয়েছেন যে, ছাত্র-জনতা হত্যা মামলার আসামি মোহাম্মদ আলী সুবা ও কাজী সেলিম সরোয়ারকে অনতিবিলম্বে গ্রেপ্তারের মাধ্যমে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক বিচারের মুখোমুখি করতে হবে। একই সাথে, যেসব সুবিধাবাদী রাজনৈতিক আশ্রয়দাতা ও পৃষ্ঠপোষক এসব স্বৈরাচারের সহযোগীদের সায়দাবাদে পুনঃপ্রতিষ্ঠা করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে তাদের চিহ্নিত করে সমান অপরাধে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করার জন্য প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।

শেয়ার করুন