পণ্যের মান নিয়ন্ত্রণ, নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতকরণ এবং ভেজালবিরোধী অভিযান পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সমস্যা চিহ্নিত করে দ্রুত সমাধানের লক্ষ্যে তিন সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সোমবার (৬ জুলাই, ২০২৬) বিকেল সাড়ে ৩টায় বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আয়োজিত এক সভায় তিনি এই নির্দেশনা প্রদান করেন।
কমিটিতে সদস্য হিসেবে থাকছেন প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসন বিষয়ক উপদেষ্টা ইসমাইল জবিউল্লাহ, জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারী এবং মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. নাসিমুল গনি। প্রধানমন্ত্রী এই কমিটিকে আগামী এক মাসের মধ্যে প্রয়োজনীয়তা সাপেক্ষে দ্রুত সমাধানযোগ্য এবং দীর্ঘমেয়াদী সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে সুপারিশসহ রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।
সভায় ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তর, নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ, বিএসটিআই এবং সিটি কর্পোরেশনের কর্মকর্তারা মাঠ পর্যায়ে ভেজালবিরোধী অভিযান ও ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনায় বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতার কথা তুলে ধরেন। কর্মকর্তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে জেলা পর্যায়ে জনবল বৃদ্ধি, আধুনিক ল্যাবরেটরি স্থাপন, মাঠ পর্যায়ে কাজের জন্য আধুনিক সরঞ্জাম সরবরাহ এবং বিভিন্ন প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনার ক্ষেত্রে নিরাপত্তা ঝুঁকি মোকাবিলায় মোবাইল কোর্টের ক্ষমতা বাড়ানো।
কর্মকর্তাদের এসব সমস্যার কথা গুরুত্বের সাথে শুনে প্রধানমন্ত্রী তাদের আশ্বস্ত করেন। তিনি বলেন, সমস্যা থাকবেই, কিন্তু তার মধ্য দিয়েই আমাদের এগিয়ে যেতে হবে। বসে থাকলে চলবে না। প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, বিশ্বের অনেক অনুন্নত দেশ আজ অনেক এগিয়ে গেছে, আমাদেরও সেই পথে হাঁটতে হবে। সবাই আন্তরিকভাবে কাজ করলে এটি সম্ভব।
জনসচেতনতার ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী গুলশান লেকের ব্যবস্থাপনার উদাহরণ টেনে বলেন, অনেক শিক্ষিত মানুষই লেকে আবর্জনা ফেলেন। দেশকে পরিবর্তন করতে হলে শুধু সরকারি উদ্যোগ নয়, নাগরিকদের সদিচ্ছা ও দায়িত্বশীলতা সমান জরুরি। দেশের স্বার্থে সবাইকে আরও সচেতন ও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।





