বাংলাদেশে গৃহযুদ্ধের ছক কষছে ভারত? রাজনৈতিক মহলে বাড়ছে উদ্বেগ

প্রকাশ:

শেখ হাসিনাকে নিয়ে ভারতের বিতর্কিত ও ভিত্তিহীন বক্তব্য অব্যাহত রয়েছে। জার্মানির মিডিয়া ডয়চে ভ্যালের সাথে ৩০ মিনিটের এক সাক্ষাৎকারে ভারতের সাবেক হাইকমিশনার রিভা গাঙ্গুলী দাস দাবি করেন, ভারত শেখ হাসিনাকে এখনো বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী হিসেবেই দেখছে। তিনি আরও দাবি করেন, শেখ হাসিনা গোপনে বা মধ্যরাতে ভারতে যাননি, বরং বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনী তার নিরাপত্তার জন্য তাকে ভারতে পৌঁছে দিয়েছে। রিভা গাঙ্গুলী শেখ হাসিনাকে ভারতের ‘প্রমাণিত ও বিশ্বস্ত বন্ধু’ হিসেবে অভিহিত করেন।

এর বিপরীতে, বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক কঠোর বিবৃতিতে ভারতকে স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছে, বাংলাদেশ সার্বভৌম সমতা, পারস্পরিক শ্রদ্ধা, একে-অপরের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করা এবং জাতীয় মর্যাদার ভিত্তিতে ভারতের সাথে একটি গঠনমূলক, পারস্পরিক সুবিধাজনক ও ভবিষ্যৎমুখী সম্পর্ক বজায় রাখতে চায়। বিবৃতিতে হাসিনাকে ‘পলাতক দণ্ডপ্রাপ্ত গণহত্যাকারী’ ও একটি মাফিয়া চক্রের প্রধান হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। ঢাকার এই আপত্তির পরও রিভা গাঙ্গুলী দাবি করেন যে, ভারতে অবস্থানকালে হাসিনাকে রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে দেখাটা তার কাছে অস্বাভাবিক মনে হচ্ছে না এবং ভারত এর সরাসরি দায় দেখছে না। যদিও ঢাকার বিবৃতির পর ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলতে বাধ্য হয়েছে যে, ভারত হাসিনার বক্তব্য বিশ্বাস করে না।

রিভা গাঙ্গুলীর এ ধরনের বক্তব্যে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠেছে, বাংলাদেশে অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টিই কি ভারতের লক্ষ্য? রিভা ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, হাসিনা বর্তমানে একটি প্রতিকূল পরিস্থিতিতে থাকলেও ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের মৌলিক প্রতিফলনে বড় কোনো পরিবর্তন ঘটবে না। এছাড়া ফাঁসির রায় বা অন্যান্য প্রতিকূলতার বার্তা সত্ত্বেও হাসিনা বাংলাদেশে ফিরে যাওয়ার যে বার্তা দিয়েছেন এবং রাজনৈতিক অবস্থান নিয়েছেন, তার একটা শেষ দেখার ইচ্ছা ব্যক্ত করেন রিভা।

ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে গৃহপালিত বিরোধী দল জাতীয় পার্টির নেতা জিএম কাদের ভারত সফর থেকে ফিরে সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, তার মুখ খোলা বারণ। তবে এখন জাপা নেতাদের মুখ খোলা বারণ নেই। বিভিন্ন ইউটিউব চ্যানেলে জাপা নেতা শামীম হায়দার পাটোয়ারী খোলামেলাই বলছেন, হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনতে ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের চাপ সহ্য করতে পারবে না বর্তমান সরকার। ‘মানচিত্র’ চ্যানেলে শামীম হায়দার পাটোয়ারী ও মঞ্জুরুল আলম পান্নার আলোচনার মূল বক্তব্য হচ্ছে, সরকার চাইবে না হাসিনা এখনই ফিরে আসুক। কারণ সরকার রাজনৈতিক দিক থেকে এখনো ততটা শক্তিশালী বা গুছিয়ে ওঠার অবস্থানে নেই।

শামীমের মতে, হাসিনা ফিরলে তার অনুসারী বা আওয়ামী লীগ সমর্থক এবং তাদের বিরোধী মব বা জামায়াত-সমর্থিত গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে মুখোমুখি সংঘর্ষ সৃষ্টি হতে পারে, যা দেশকে একটি ছোটখাটো গৃহযুদ্ধ বা অস্থিরতার দিকে নিয়ে যেতে পারে। শামীম দাবি করেন, পুলিশ বাহিনী যথেষ্ট মনোবলহীন বা ডিমোরালাইজড অবস্থায় থাকায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকারকে পুরোদমে সেনাবাহিনী মোতায়েন করতে হতে পারে। তিনি আরও অভিযোগ করেন, পুলিশে সংস্কার করা হয়নি এবং সেনাবাহিনীকে দিয়ে পুলিশের কাজ করানো হচ্ছে। চব্বিশের ৫ থেকে ৮ আগস্টের ঘটনাবলি নিয়ে সাধারণ পুলিশ কর্মকর্তারা মনে করেন তাদের সাথে অনেক অন্যায় করা হয়েছে। পুলিশ যদি ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হয় এবং তাদের অসন্তোষ দূর না করা হয়, তবে ভবিষ্যতে এটি একটি বিপ্লব বা বিদ্রোহের কারণ হতে পারে।

শেয়ার করুন