কাঁচরাপাড়ায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের গাড়িতে হামলা, কাদা-চটি নিক্ষেপ

প্রকাশ:

ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের কাঁচরাপাড়ায় সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের গাড়িতে হামলা চালানো হয়েছে। পুলিশি হেফাজতে মৃত এক তৃণমূল কর্মীর পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে তিনি এই বিক্ষোভের মুখে পড়েন। এ সময় বিজেপির কর্মীরা তার গাড়ি লক্ষ্য করে কাদা ও ছেঁড়া চটি নিক্ষেপ করেন।

ঘটনার পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাজ্য সরকার ও মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে তীব্র নিশানা করেন। তিনি অভিযোগ করেন যে, বিজেপি গুন্ডাদের দিয়ে এই কাজ করিয়েছে। মমতা বলেন, ‘‘নিরাপত্তা ভুলে যান। লুম্পেনদের প্রোটেকশন দিচ্ছে পুলিশ! বাংলা তো লুম্পেনদের হাতে চলে গিয়েছে। আমরা কেস করব।’’ তিনবারের মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, তার গাড়িতে বড় বড় ইট ছোড়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন, ‘‘আমার মাথা ফেটে যেত। এখানে আমরা মরে যেতাম। পুলিশ বিজেপিকেই প্রোটেকশন দিচ্ছে।’’

অন্যদিকে, বিজেপির অভিযোগ, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কাঁচরাপাড়ায় উস্কানি দিতে এসেছিলেন, যার প্রতিবাদ সাধারণ মানুষ করেছে। তবে বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য পাল্টা দাবি করেছেন যে, এই বিক্ষোভে বিজেপির কোনো কর্মী জড়িত ছিলেন না।

রোববার মমতার কাঁচরাপাড়া সফরে তার সঙ্গী ছিলেন লোকসভার এমপি কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় এবং রাজ্যসভার এমপি দোলা সেন। তারাও বিক্ষোভের মুখে পড়ে প্রশাসনের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘‘শুভেন্দু অধিকারী পুলিশ দিয়ে রাজত্ব চালাচ্ছেন। মাফিয়াদের দিয়ে কাজ করাচ্ছেন।’’ সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতার গাড়ি বীজপুরের রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় পুলিশকে সেটি ঘিরে রাখতে হয়।

উল্লেখ্য, চাঁদাবাজি-সহ বিভিন্ন অভিযোগে কাঁচরাপাড়া পুরসভার ২৩ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক তৃণমূল কাউন্সিলর জেনি শর্মা কেওটের স্বামী বিরজু কেওটকে হালিশহর থানার পুলিশ গ্রেফতার করেছিল। শুক্রবার তাকে আদালতে হাজির করানো হলে বিচারক পাঁচ দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দেন। কিন্তু শনিবার জানা যায়, পুলিশি হেফাজতে বিরজু কেওটের মৃত্যু হয়েছে। জেনি শর্মা কেওট অভিযোগ করেছেন যে, লকআপের ভিতরে পুলিশের মারধরেই তার স্বামীর মৃত্যু হয়েছে।

শেয়ার করুন