সরাইলে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস: বৈষম্য দূর নিয়ে প্রশ্ন রুমিনের

প্রকাশ:

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস-২০২৬’ যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হয়েছে। বুধবার সকাল ১১টায় সরাইল উপজেলা প্রশাসনের হলরুমে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বীর শহীদদের স্মরণ, আহতদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন এবং গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করা হয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাইফুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল-আশুগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা। অনুষ্ঠানে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ ও আহতদের সম্মাননা হিসেবে ক্রেস্ট প্রদান করা হয়। এতে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ও সরকারি কর্মকর্তারা অংশগ্রহণ করেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দুই বছর পার হয়েছে। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে—যে বৈষম্যের বিরুদ্ধে মানুষ রাস্তায় নেমেছিল, সেই বৈষম্য কি আমরা পুরোপুরি দূর করতে পেরেছি? তিনি উল্লেখ করেন, ১৮ কোটি মানুষের বাংলাদেশে এখনো ধনী-গরিব, সংখ্যালঘু-সংখ্যাগরিষ্ঠ, আদিবাসী ও নারী-পুরুষের মধ্যে বৈষম্য রয়ে গেছে। তিনি বলেন, জুলাই আন্দোলনে কয়েক হাজার মানুষ শহীদ হয়েছেন এবং অসংখ্য মানুষ চিরতরে পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন। তাদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে আমরা যে নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেছি, সেটি কি সত্যিই সবার বাংলাদেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে পেরেছি—এই প্রশ্ন আমাদের নিজেদের কাছেই করতে হবে।

রুমিন ফারহানা আরও বলেন, ‘একটি সরকারের পরিবর্তে আরেকটি সরকার’ প্রতিষ্ঠা করাই জুলাই গণঅভ্যুত্থানের একমাত্র লক্ষ্য ছিল না। মানুষের প্রত্যাশা ছিল বৈষম্যহীন, গণতান্ত্রিক ও সবার অংশগ্রহণের বাংলাদেশ। সেই প্রত্যাশা পূরণে রাষ্ট্র কতটা এগিয়েছে, তা নিয়ে আত্মসমালোচনা প্রয়োজন। নিজের রাজনৈতিক জীবনের প্রসঙ্গ তুলে তিনি জানান, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তার বিরুদ্ধে হত্যা মামলাসহ ১০টি মামলা হয়েছিল এবং তার গাড়ি ভাঙচুর ও বিভিন্ন ষড়যন্ত্রের ঘটনা ঘটেছিল। আল্লাহর রহমতে তিনি এখনো বেঁচে আছেন বলেও উল্লেখ করেন।

অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে শেখ হাসিনার ভারতে অবস্থান থেকে দেওয়া বক্তব্য প্রচারে সরকারি নিষেধাজ্ঞার প্রসঙ্গেও কথা বলেন রুমিন ফারহানা। তিনি বলেন, বর্তমানে মানুষের হাতে হাতে মোবাইল ফোন। মুক্ত গণমাধ্যম ও প্রযুক্তির এই সময়ে কেউ পৃথিবীর যে প্রান্ত থেকেই বক্তব্য দেন, তা মোবাইল ফোনের মাধ্যমে মুহূর্তেই ছড়িয়ে পড়ে। তিনি দাবি করেন, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তারেক রহমান লন্ডন থেকে বক্তব্য দেওয়ার ক্ষেত্রে প্রচার-নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল, কিন্তু প্রযুক্তির যুগে কোনো বক্তব্যকে মানুষের কাছে পৌঁছানো থেকে পুরোপুরি আটকানো সম্ভব হয়নি। তিনি বলেন, তথ্যপ্রবাহ নিয়ন্ত্রণের চেয়ে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও মানুষের তথ্য জানার অধিকার নিশ্চিত করাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

শেয়ার করুন