জুন মাসে সড়ক দুর্ঘটনায় ৪৩৮ জনের মৃত্যু, শীর্ষে ঢাকা বিভাগ

প্রকাশ:

দেশের সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে কাজ করা বেসরকারি সংস্থা রোড সেফটি ফাউন্ডেশন জানিয়েছে, গত জুন মাসে দেশে ৪৭২টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৪৩৮ জন নিহত হয়েছেন। সংস্থাটির মাসওয়ারি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এসব দুর্ঘটনায় নিহতের পাশাপাশি ৫৬১ জন আহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ৪৪ জন নারী এবং ৫৬ জন শিশু রয়েছে। প্রতিবেদনটি তৈরিতে নয়টি জাতীয় দৈনিক, ১৭টি জাতীয় ও আঞ্চলিক অনলাইন পোর্টাল, ইলেকট্রনিক মিডিয়া এবং নিজস্ব তথ্যের সহায়তা নেওয়া হয়েছে।

বিভাগভিত্তিক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, ঢাকা বিভাগে সবচেয়ে বেশি ১১৬টি দুর্ঘটনায় ১১৮ জন নিহত হয়েছেন। বিপরীতে ময়মনসিংহ বিভাগে সবচেয়ে কম ১৯টি দুর্ঘটনায় ১৬ জন প্রাণ হারিয়েছেন। এছাড়া রাজধানীর সড়কে ৩২টি দুর্ঘটনায় ২৪ জন নিহত ও ৪৯ জন আহত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। সড়ক দুর্ঘটনার বিভাগওয়ারী হার বিশ্লেষণে দেখা যায়, ঢাকা বিভাগে ২৪ দশমিক ৫৭ শতাংশ, চট্টগ্রাম বিভাগে ২৩ দশমিক ৭২ শতাংশ, রাজশাহী বিভাগে ১৮ দশমিক ৪৩ শতাংশ, রংপুর বিভাগে ১০ দশমিক ১৬ শতাংশ, খুলনা বিভাগে ৮ দশমিক ৬৮ শতাংশ, বরিশাল বিভাগে ৫ দশমিক ৯৩ শতাংশ, সিলেট বিভাগে ৪ দশমিক ৪৪ শতাংশ এবং ময়মনসিংহ বিভাগে ৪ দশমিক ০২ শতাংশ দুর্ঘটনা ঘটেছে।

দুর্ঘটনার ধরণ বিশ্লেষণে দেখা যায়, ১৪৫টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ১৩৪ জন নিহত হয়েছেন, যা মোট নিহতের ৩০ দশমিক ৫৯ শতাংশ। এছাড়া পথচারী নিহত হয়েছেন ৯১ জন (২০ দশমিক ৭৭ শতাংশ) এবং যানবাহন চালক ও সহকারী নিহত হয়েছেন ৫৭ জন (১৩ শতাংশ)। পাশাপাশি জুন মাসে ৯টি নৌ-দুর্ঘটনায় সাত জন নিহত ও চার জন আহত হয়েছেন এবং ২১টি রেলপথ দুর্ঘটনায় ১৮ জন নিহত ও সাত জন আহত হয়েছেন। দুর্ঘটনার স্থান বিন্যাসে ১৫১টি জাতীয় মহাসড়কে, ১৯৪টি আঞ্চলিক সড়কে, ৬৪টি গ্রামীণ সড়কে এবং ৫৭টি শহরের সড়কে ঘটেছে।

দুর্ঘটনায় জড়িত যানবাহনের মধ্যে ট্রাক, কাভার্ডভ্যান, পিকআপ ও লরিসহ বিভিন্ন ভারী যানবাহনের হার ২৫ দশমিক ৬৬ শতাংশ, মোটরসাইকেল ২২ শতাংশ, থ্রি-হুইলার ১৯ দশমিক ৭৭ শতাংশ এবং যাত্রীবাহী বাস ১৬ দশমিক ২৬ শতাংশ। এছাড়া অন্যান্য যানবাহনের মধ্যে প্রাইভেটকার ও অ্যাম্বুলেন্স ৪ দশমিক ৬২ শতাংশ, স্থানীয়ভাবে তৈরি যানবাহন ৫ দশমিক ৫৯ শতাংশ এবং রিকশা ও বাইসাইকেল ১ দশমিক ৫৪ শতাংশ দুর্ঘটনায় সম্পৃক্ত ছিল।

রোড সেফটি ফাউন্ডেশন দুর্ঘটনার পেছনে ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন ও সড়ক, বেপরোয়া গতি, চালকদের অদক্ষতা ও শারীরিক-মানসিক অসুস্থতা, নির্দিষ্ট কর্মঘণ্টার অভাব এবং মহাসড়কে স্বল্পগতির যানবাহন চলাচলকে দায়ী করেছে। এছাড়া ট্রাফিক আইন না মানার প্রবণতা, দুর্বল ব্যবস্থাপনা, বিআরটিএর সক্ষমতার ঘাটতি এবং গণপরিবহনে চাঁদাবাজিকে বড় কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। পরিস্থিতি উত্তরণে সংস্থাটি জাতীয় সড়ক নিরাপত্তা কাউন্সিল পুনর্গঠন করে এর অধীনে বিআরটিএ, বিআরটিসি ও ডিটিসিএকে পরিচালনার সুপারিশ করেছে। পাশাপাশি এই প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যবস্থাপনা ও কাঠামোগত সংস্কারের মাধ্যমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের পর্যবেক্ষণ ও বিশ্লেষণ বলছে, দুর্ঘটনাগুলোর মধ্যে ১৫১টি (৩২%) জাতীয় মহাসড়কে ১৯৪টি (৪১.১০%) আঞ্চলিক সড়কে, ৬৪টি (১৩.৫৫%) গ্রামীণ সড়কে এবং ৫৭টি (১২.০৭%) শহরের সড়কে এবং ৬টি (১.২৭%) অন্যান্য স্থানে হয়েছে। দুর্ঘটনায় সম্পৃক্ত যানবাহনের মধ্যে-ট্রাক-কাভার্ডভ্যান-পিকআপ-ট্রাক্টর-ট্রলি-লরি-ড্রাম ট্রাক ২৫ দশমিক ৬৬ শতাংশ, যাত্রীবাহী বাস ১৬ দশমিক ২৬ শতাংশ, মাইক্রোবাস-প্রাইভেটকার-অ্যাম্বুলেন্স ৪ দশমিক ৬২ শতাংশ, মোটরসাইকেল ২২ শতাংশ, থ্রি-হুইলার (ইজিবাইক-সিএনজি-অটোরিকশা-অটোভ্যান-মিশুক) ১৯ দশমিক ৭৭ শতাংশ, স্থানীয়ভাবে তৈরি যানবাহন (নসিমন-ভটভটি-টমটম-মাহিন্দ্র) ৫ দশমিক ৫৯ শতাংশ, রিকশা-বাইসাইকেল ১ দশমিক ৫৪ শতাংশ এবং অজ্ঞাত যানবাহন ৪ দশমিক ২০ শতাংশ।

শেয়ার করুন