চার ব্যাংকের অর্ধবার্ষিক প্রতিবেদন: ইপিএস বাড়ল দুইটির, কমল দুইটির

প্রকাশ:

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত চারটি ব্যাংক ২০২৬ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিক (এপ্রিল-জুন) এবং প্রথম ছয় মাসের (জানুয়ারি-জুন) অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূত্রে রোববার (২ আগস্ট) এই তথ্য জানা গেছে। প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রাইম ব্যাংক ও আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকের শেয়ারপ্রতি মুনাফা (ইপিএস) বৃদ্ধি পেয়েছে, অন্যদিকে মার্কেন্টাইল ব্যাংক ও ঢাকা ব্যাংকের ইপিএস কমেছে।

মার্কেন্টাইল ব্যাংকের এপ্রিল-জুন প্রান্তিকে সমন্বিত ইপিএস হয়েছে লোকসান ০.০৭ টাকা, যেখানে আগের বছরের একই সময়ে মুনাফা ছিল ০.৯৮ টাকা। চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে ব্যাংকটির সমন্বিত ইপিএস দাঁড়িয়েছে ০.২২ টাকা, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ১.৮২ টাকা। ব্যাংকটির সমন্বিত শেয়ারপ্রতি পরিচালন নগদ প্রবাহ (এনওসিএফপিএস) কমে ০.৭৪ টাকায় নেমেছে, যা এক বছর আগে ছিল ৩.৬০ টাকা। ৩০ জুন ২০২৬ শেষে ব্যাংকটির সমন্বিত এনএভি দাঁড়িয়েছে ২৪.৩০ টাকা, যা ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর ছিল ২৪.৩৫ টাকা। ব্যাংকটির মতে, প্রভিশনের আগে মুনাফা কমে যাওয়া, পরিচালন নগদ প্রবাহ হ্রাস এবং শেয়ারহোল্ডারদের ইক্যুইটি কমে যাওয়ায় এসব সূচকে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।

প্রাইম ব্যাংকের এপ্রিল-জুন প্রান্তিকে সমন্বিত ইপিএস বেড়ে ১.৮৫ টাকা হয়েছে, যা আগের বছরের পুনর্নির্ধারিত ১.৬৪ টাকা ছিল। প্রথম ছয় মাসে ব্যাংকটির সমন্বিত ইপিএস বেড়ে ৩.৫৬ টাকায় দাঁড়িয়েছে, যা আগের বছরের পুনর্নির্ধারিত ৩.৩৬ টাকা ছিল। তবে ব্যাংকটির এনওসিএফপিএস কমে ৭.৫৫ টাকায় নেমেছে, যা এক বছর আগে পুনর্নির্ধারিত হিসাবে ছিল ১৬.২৯ টাকা। ৩০ জুন ২০২৬ শেষে সমন্বিত এনএভি বেড়ে ৩৯.০৩ টাকায় উন্নীত হয়েছে, যা ২০২৫ সালের ৩০ জুন ছিল ৩৩.৬১ টাকা। ব্যাংকটির ব্যাখ্যা অনুযায়ী, ঋণ গ্রহণের পরিমাণ কমে যাওয়া এবং বিনিয়োগ বৃদ্ধি পাওয়ায় পরিচালন নগদ প্রবাহ কমেছে।

আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকের এপ্রিল-জুন প্রান্তিকে সমন্বিত ইপিএস হয়েছে ০.৭২ টাকা, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ০.৭৮ টাকা। তবে জানুয়ারি-জুন সময়ে ব্যাংকটির সমন্বিত ইপিএস বেড়ে ০.৮৬ টাকায় দাঁড়িয়েছে, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ০.৮৩ টাকা। এ সময় এনওসিএফপিএস কমে ৭.৬৩ টাকায় নেমেছে, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ১৫.৮৯ টাকা। ৩০ জুন ২০২৬ শেষে সমন্বিত এনএভি বেড়ে হয়েছে ২১.৮১ টাকা, যা ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর ছিল ২১.১৬ টাকা। ব্যাংকটির মতে, বিনিয়োগ আয় বৃদ্ধির ফলে ইপিএস বাড়লেও আমানত প্রবৃদ্ধি কম থাকায় পরিচালন নগদ প্রবাহ কমেছে।

ঢাকা ব্যাংকের এপ্রিল-জুন প্রান্তিকে সমন্বিত ইপিএস বেড়ে ০.৩৮ টাকা হয়েছে, যা আগের বছরের পুনর্নির্ধারিত ০.২৯ টাকা ছিল। তবে প্রথম ছয় মাসে ব্যাংকটির সমন্বিত ইপিএস কমে ০.৯৫ টাকায় নেমেছে, যা আগের বছরের পুনর্নির্ধারিত ১.০৯ টাকা ছিল। এ সময় সমন্বিত এনওসিএফপিএস ঋণাত্মক ১০.৪৩ টাকায় দাঁড়িয়েছে, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ২৩.০৯ টাকা। ৩০ জুন ২০২৬ শেষে সমন্বিত এনএভি বেড়ে ২৩.৪৬ টাকায় উন্নীত হয়েছে, যা ২০২৫ সালের ৩০ জুন ছিল ২২.৫৪ টাকা। ব্যাংকটির ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, পরিচালন আয় কমে যাওয়া, আয়কর সংস্থান বৃদ্ধি এবং আমানত হ্রাস পাওয়ায় ইপিএস ও পরিচালন নগদ প্রবাহে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।

শেয়ার করুন