৪৭তম বিসিএস পরীক্ষায় পররাষ্ট্র ক্যাডারে প্রথম স্থান অর্জন করেছেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগের স্নাতক তানভীর রহমান। মির্জাপুর ক্যাডেট কলেজের প্রাক্তন ছাত্র তানভীর জানান, তাঁর সিনিয়রদের সামরিক বাহিনী, ইঞ্জিনিয়ারিং বা মেডিক্যাল পেশায় যোগ দিতে দেখে ছোটবেলা থেকেই উচ্চশিক্ষার প্রতি আগ্রহ তৈরি হয়। বুয়েটে পড়ার সময় ৪১তম বিসিএসে প্রশাসন ক্যাডারে বড় ভাইয়ের যোগদানের বিষয়টি তাঁকে বিসিএস পরীক্ষার প্রতি অনুপ্রাণিত করে। চতুর্থ বর্ষ থেকে তিনি এ বিষয়ে মনোযোগী হন।
প্রস্তুতির কৌশল সম্পর্কে তানভীর বলেন, কোনো নির্দিষ্ট ছক না থাকলেও সময় ব্যবস্থাপনার ওপর তিনি জোর দিয়েছিলেন। মাস্টার্স এবং চাকরির পাশাপাশি প্রতিদিন অল্প সময়ের জন্য হলেও পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করতেন। তিনি বিশ্বাস করেন, সফলতার ১০ শতাংশ নিজের প্রচেষ্টা হলেও বাকি ৯০ শতাংশই ভাগ্য বা তাকদির। পরীক্ষার সময় মানসিক চাপমুক্ত থাকতে পরিবার ও বন্ধুদের সমর্থন তাঁকে দারুণভাবে সহায়তা করেছে। নিয়মিত ফুটবল খেলা এবং ধর্মীয় ইবাদত তাঁকে মানসিকভাবে প্রশান্ত রেখেছে বলে তিনি জানান।
চাকরি ও বিসিএস প্রস্তুতির ভারসাম্য বিষয়ে তানভীর বলেন, এটি একটি ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত। তিনি ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করার পাশাপাশি বিসিএসের প্রস্তুতি নিয়েছেন। তাঁর মতে, শুধু বিসিএসের পেছনে পড়ে থাকলে অনেক সময় মানসিক অস্থিরতা তৈরি হতে পারে, তাই কর্মক্ষেত্রে যুক্ত থাকাটা তাঁর জন্য সহায়ক ছিল। জীবনের যেকোনো জটিল সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে তিনি ‘জবাবদিহিতার’ নীতি অনুসরণ করেন। তাঁর কাছে সৃষ্টিকর্তার কাছে জবাবদিহিতার বিষয়টিই প্রধান কম্পাস, পাশাপাশি দেশ ও জনগণের স্বার্থকে তিনি গুরুত্ব দেন।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে তানভীর জানান, তিনি শিক্ষকতা পেশাটি উপভোগ করেন। তাঁর বাবাও একজন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক। বিসিএস না হলে হয়তো তিনি কোনো সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক হিসেবে যোগ দিতেন। বর্তমানে তিনি বুয়েটের সিএসই বিভাগে মাস্টার্স করছেন এবং ৫০তম বিসিএসের লিখিত পরীক্ষাও দিয়েছেন। জীবনের সবচেয়ে চ্যালেঞ্জিং সময় হিসেবে তিনি উচ্চমাধ্যমিক পরবর্তী বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তির সময়টিকে চিহ্নিত করেন, যেখানে পরিবারের সমর্থন ও মহান আল্লাহর ওপর বিশ্বাস তাঁকে প্রতিকূলতা কাটিয়ে উঠতে সাহায্য করেছিল।





