কিয়েভে রুশ বাহিনীর মুহুর্মুহু ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, নিহত ৯

প্রকাশ:

ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে ব্যাপক হামলা চালিয়েছে রাশিয়ান বাহিনী। স্থানীয় কর্মকর্তাদের নিশ্চিত তথ্য অনুযায়ী, এই হামলায় এখন পর্যন্ত অন্তত নয়জন নিহত হয়েছেন। ইউক্রেনের জরুরি পরিষেবা বিভাগ জানিয়েছে, শনিবার (১ আগস্ট) সকালে চালানো এই ভয়াবহ হামলায় আরও ২৮ জন আহত হয়েছেন। সাম্প্রতিক সময়ে মস্কো কিয়েভে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে দিয়েছে।

কিয়েভের মেয়র ভিতালি ক্লিতস্কো জানিয়েছেন, রাজধানীতে ১০টিরও বেশি বিস্ফোরণ ঘটেছে। এই হামলার ফলে শহরজুড়ে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে এবং কিছু এলাকা বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। শেভভেঙ্কিভস্কি জেলায় একটি আবাসিক ভবনের একাংশ ধ্বংস হয়ে গেছে, যার ধ্বংসস্তূপে অনেকে আটকা পড়েছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এছাড়া দারনিতস্কি জেলায় রুশ হামলায় অন্তত সাতজন নিহত এবং ১৪ জন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে দুইজন শিশু রয়েছে। সলোমিয়ানস্কি জেলায় হামলায় আরও দুইজন নিহত ও আটজন আহত হয়েছেন; এই আহতদের মধ্যেও দুইজন শিশু রয়েছে।

লিথুয়ানিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, একটি ক্ষেপণাস্ত্র তাদের দূতাবাসের কাছে আঘাত হেনেছে। এতে দূতাবাসের জানালা ভেঙে গেছে এবং প্রাঙ্গণে ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ পড়েছে। এই হামলার দুইদিন আগে পোল্যান্ডের ভূখণ্ডে ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছিল, যার জন্য রাশিয়াকে দায়ী করা হচ্ছে।

কিয়েভে এই ভয়াবহ হামলার আগে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। সেখানে তিনি প্যাট্রিয়ট ইন্সেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদনের জন্য লাইসেন্স পাওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন। মিত্র দেশগুলোর কাছে ক্ষেপণাস্ত্রবিধ্বংসী অস্ত্র সরবরাহের জন্য তিনি ক্রমাগত আহ্বান জানিয়ে আসছেন। এদিকে, ইউক্রেনও রাশিয়ার অভ্যন্তরে প্রতিশোধমূলক হামলা জোরদার করেছে। প্রায় পাঁচ বছর ধরে চলা এই যুদ্ধে উভয় পক্ষেই হতাহতের সংখ্যা বাড়ছে, তবে সংঘাত থামার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না।

শেয়ার করুন