চট্টগ্রামে এলপিজি সিলিন্ডারের দামে বড় বৈষম্য, কোথাও বাড়তি দাম

প্রকাশ:

চট্টগ্রাম নগরের বিভিন্ন বাজারে ১২ কেজি ওজনের এলপিজি সিলিন্ডার বিক্রিতে বড় ধরনের দামের পার্থক্য লক্ষ্য করা গেছে। সরকার বর্তমানে ভোক্তা পর্যায়ে ১২ কেজি বেসরকারি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ১ হাজার ৫২৮ টাকা নির্ধারণ করে দিলেও, কিছু দোকানে তা নির্ধারিত দামের চেয়ে ৪২২ টাকা পর্যন্ত বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। শনিবার বিকেলে নগরের ষোলশহর ও পলিটেকনিক মোড় এলাকায় সরেজমিনে এই চিত্র দেখা যায়।

ষোলশহরের মেসার্স জিহান এন্টারপ্রাইজে টোটাল কোম্পানির সিলিন্ডার ১ হাজার ৮৫০ টাকায় এবং বেক্সিমকো কোম্পানির একই ওজনের সিলিন্ডার ১ হাজার ৯৫০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে। অর্থাৎ বেক্সিমকোর ক্ষেত্রে নির্ধারিত দামের চেয়ে ৪২২ টাকা বেশি রাখা হচ্ছে। এ বিষয়ে দোকানটির স্বত্বাধিকারী মোহাম্মদ সাহাব উদ্দীন জানান, নতুন চালানের সিলিন্ডার এখনো না আসায় আগের বেশি দামে কেনা মজুদ থেকেই তারা বিক্রি করছেন। আগামীকাল রোববার নতুন চালান এলে দাম কমে আসবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। একই এলাকার মেসার্স খাজা চুলা ঘরেও টোটাল ও বেক্সিমকো কোম্পানির সিলিন্ডার ১ হাজার ৭০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা নির্ধারিত দামের চেয়ে ১৭২ টাকা বেশি। প্রতিষ্ঠানটির কর্ণধার মো. ওমর ফারুক জানান, অন্য কোম্পানির সিলিন্ডার নির্ধারিত দামেই বিক্রি হচ্ছে, শুধুমাত্র এই দুটি ব্র্যান্ডের ক্ষেত্রেই দাম বেশি নেওয়া হচ্ছে।

তবে সব দোকানের চিত্র একই নয়। পলিটেকনিক মোড় এলাকার মেসার্স মোহাম্মদীয়া ট্রেডিংয়ে ১২ কেজির সিলিন্ডার সরকার নির্ধারিত দামেই বিক্রি হচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটির মালিক মুহাম্মদ আলী আজম জানান, বাজারে সরবরাহ ভালো থাকলেও বর্তমানে বেচাকেনা কিছুটা কম। সামগ্রিকভাবে নগরের বিভিন্ন এলাকায় এলপিজি সিলিন্ডারের সরবরাহে কোনো ঘাটতি নেই, তবে বাড়তি দাম মূলত নির্দিষ্ট দুটি ব্র্যান্ডের ক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ।

উল্লেখ্য যে, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্ববাজারে এলপিজির দাম বাড়লে এপ্রিল মাসে দেশে দাম রেকর্ড পর্যায়ে পৌঁছেছিল। এতে ১২ কেজির সিলিন্ডারের দাম দাঁড়ায় ১ হাজার ৯৪০ টাকা। এরপর বিশ্ববাজারে দাম কমতে শুরু করলে গত বৃহস্পতিবার ১২ কেজি ওজনের সিলিন্ডারের দাম কমিয়ে ১ হাজার ৫২৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়, যেখানে প্রতি কেজিতে দাম কমেছে ২৯ টাকা ৭৬ পয়সা। এর ধারাবাহিকতায় জুনে ১২ কেজির সিলিন্ডারের দাম কমে হয় ১ হাজার ৮৮৫ টাকা। এলপি গ্যাস পরিবেশক সমিতি চট্টগ্রামের সভাপতি খোরশেদুর রহমান জানান, আমদানি ও সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে। বাড়তি দামের বিষয়টি নিয়ে আগামীকাল টোটাল ও বেক্সিমকোর প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনার কথা রয়েছে। তিনি আরও বলেন, নতুন দাম ঘোষণার পরপরই সব ব্যবসায়ীর পক্ষে কম দামে বিক্রি করা সম্ভব হয় না, কারণ অনেকের কাছে আগের বেশি দামে কেনা সিলিন্ডার মজুদ থাকে।

এপ্রিলের শুরুতে ১২ কেজির সিলিন্ডারের দাম বাড়ানো হয় ৩৮৭ টাকা।

একই মাসের ১৯ এপ্রিল আবার দাম বাড়ে ২১২ টাকা।

শেয়ার করুন