কক্সবাজারের রামুতে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মোটরসাইকেল শোডাউন ও মিছিল করার অভিযোগ উঠেছে। একই সময়ে উখিয়ায় সংগঠনটির একটি কর্মী সমাবেশকে ঘিরে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের ১১৪ জনের নাম উল্লেখ করে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা দায়ের করেছে পুলিশ। এই দুই ঘটনায় কক্সবাজারের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্র ও ছাত্রলীগের দাবি অনুযায়ী, রবিবার (২৬ জুলাই) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে রামুর রশিদনগর ইউনিয়নের স্বপ্নতরী পার্কসংলগ্ন এলাকা থেকে মোটরসাইকেল শোডাউনটি শুরু হয়। বহরটি কক্সবাজার-চট্টগ্রাম মহাসড়ক হয়ে জোয়ারিয়ানালার দিকে যায়। রামু উপজেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক তারেক উদ্দিন মিশুক শোডাউনের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে শতাধিক নেতাকর্মী এতে অংশ নেন। তিনি দাবি করেন, উপজেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক শাহীন সরওয়ার কাজল ও সদস্য কাওসার সাকিব এই কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দেন। তবে রামু থানার ওসি মনিরুল ইসলাম ভূঁইয়া শোডাউনের সময় নিয়ে ভিন্নমত পোষণ করেছেন। তিনি জানান, রবিবার সকাল থেকে রামুতে বৃষ্টি ছিল, কিন্তু প্রচারিত ভিডিওতে আকাশ পরিষ্কার দেখা যাওয়ায় এটি আগের কোনো সময়ের ভিডিও হতে পারে। এদিকে রামু উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক নুরুল ইসলাম শোডাউনটি রবিবারের বলে দাবি করেছেন এবং এর প্রতিবাদে কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছেন।
অন্যদিকে, উখিয়ার পালংখালী ইউনিয়নে শনিবার (২৫ জুলাই) ছাত্রলীগের একটি কর্মী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এর প্রতিবাদে বিকেলে স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ মিছিল করেন। এই সমাবেশকে কেন্দ্র করেই উখিয়া থানায় ১১৪ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৫০ থেকে ৬০ জনের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা হয়েছে। রবিবার বিকেলে উখিয়া থানার এসআই পলাশ বড়ুয়া বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন।
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, শনিবার দুপুরে কুতুপালং বাজার এলাকায় দায়িত্ব পালনকালে পুলিশ জানতে পারে যে, পালংখালী ইউনিয়নের নলবুনিয়া এলাকায় নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা গোপন বৈঠক করছেন। পুলিশের দাবি, তারা নাশকতা ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির পরিকল্পনা করছিলেন। অভিযানে হলদিয়াপালং ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সাধারণ সম্পাদক মিলন বড়ুয়া এবং আবু নাসের মোহাম্মদ ইমরানকে আটক করা হয়।
মামলায় উখিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি জাহাঙ্গীর কবির চৌধুরী, সহ-সভাপতি হুমায়ুন কবির চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক নুরুল হুদা, উপজেলা যুবলীগের সভাপতি ইমাম হোসেন, সাধারণ সম্পাদক সরওয়ার কামাল পাশা এবং উপজেলা ছাত্রলীগের আহ্বায়ক তারেক হোসেন মানিকসহ মোট ১১৪ জনকে আসামি করা হয়েছে। উখিয়া থানার ওসি আতিকুর রহমান মজুমদার জানিয়েছেন, আটককৃত দুজনকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে এবং বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
অন্যদিকে ছাত্রলীগের রামু উপজেলা শাখার যুগ্ম আহ্বায়ক তারেক উদ্দিন মিশুক শোডাউনের বিষয়টি স্বীকার করেছেন। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘‘রোববার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে নেতাকর্মীরা একত্রিত হয়ে মিছিল করেন। তখন রামুতে বৃষ্টি ছিল না; সকাল সাড়ে ৯টার পর বৃষ্টি শুরু হয়।’’
পরে উখিয়া থানার একাধিক টহল দল ঘটনাস্থলে অভিযান চালায়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে বৈঠকে থাকা ব্যক্তিরা পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে হলদিয়াপালং ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সাধারণ সম্পাদক মিলন বড়ুয়া (৪২) এবং আবু নাসের মোহাম্মদ ইমরান (২৪) নামে দুজনকে আটক করা হয়। অন্যরা পালিয়ে যান।





