গত এক দশকে বাংলাদেশের জ্বালানি খাত এক কঠিন সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়েছে। দেশের প্রধান স্থলভাগের গ্যাসক্ষেত্রসমূহ, যেমন তিতাস, হবিগঞ্জ, বাখরাবাদ, কৈলাসটিলা ও রশিদপুর, এখন উৎপাদন সক্ষমতার শেষ পর্যায়ে পৌঁছেছে। নতুন কোনো বড় আবিষ্কার না হওয়ায় দেশীয় গ্যাসের উৎপাদন ক্রমাগত হ্রাস পাচ্ছে। এর ফলে বিদ্যুৎ উৎপাদন, সার কারখানা, বস্ত্রশিল্প, সিরামিক, সিমেন্ট এবং ইস্পাত শিল্পের মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতগুলো মারাত্মক চাপের মুখে পড়েছে। এই ঘাটতি মেটাতে সরকারকে ব্যয়বহুল এলএনজি আমদানির ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে।
বিশ্ববাজারের অস্থিরতা ও ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে এলএনজি সরবরাহ ব্যবস্থা এখন বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে। ২০২২ সালের জ্বালানিসঙ্কটের সময় স্পট মার্কেটে দাম কয়েক গুণ বেড়ে যাওয়ায় বাংলাদেশ একাধিক কার্গো বাতিল করতে বাধ্য হয়। এছাড়া ২০২৬ সালে মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক অস্থিরতার প্রভাবে কাতার থেকেও সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা নীতিনির্ধারকদের নতুন করে ভাবতে বাধ্য করছে যে, বাংলাদেশ কি নিজস্ব সমুদ্রবক্ষে লুকিয়ে থাকা সম্পদের অনুসন্ধান ও উত্তোলনে পিছিয়ে পড়েছে?
সমুদ্রসীমা বিরোধ নিষ্পত্তির এক দশকের বেশি সময় পার হলেও বাংলাদেশ এখন পর্যন্ত কোনো নতুন বাণিজ্যিক অফশোর গ্যাসক্ষেত্র উৎপাদনে আনতে পারেনি। ঐতিহাসিক ভুল, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা, বিনিয়োগের অভাব এবং দূরদর্শিতার ঘাটতিকে এর মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে। যদিও বঙ্গোপসাগরের অফশোর অনুসন্ধান নিয়ে দীর্ঘ সময় ধরে আলোচনা চলছে, কিন্তু বাস্তবে কোনো বড় সাফল্য আসেনি।
বাংলাদেশে অফশোর অনুসন্ধানের যাত্রার ইতিহাস প্রায় ৫০ বছরের। ১৯৭৪ সালে স্বাধীনতার পরপরই সরকার প্রথমবারের মতো আন্তর্জাতিক তেল-গ্যাস কোম্পানির (আইওসি) জন্য সমুদ্রের ব্লকগুলো উন্মুক্ত করে। ১৯৭৪ থেকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত প্রথম পর্যায়ে শেল ও ইউনোক্যালের মতো বৈশ্বিক কোম্পানিগুলো জরিপ চালালেও প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতা ও তথ্যের অভাবে উল্লেখযোগ্য সফলতা পায়নি। পরবর্তীতে নব্বইয়ের দশকে কেয়ার্ন এনার্জি বঙ্গোপসাগরে ‘সাঙ্গু’ গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কার করে। ১৯৯৬ সালে বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু হলেও ভুল রিজার্ভ মূল্যায়ন ও সঠিক ব্যবস্থাপনার অভাবে ২০১৪ সালে এর উৎপাদন স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে যায়। সাঙ্গু গ্যাসক্ষেত্র বন্ধ হওয়ার পর স্থলভাগের গ্যাসের দিকে অতিরিক্ত মনোযোগ দেওয়ায় ২০০০ থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত অফশোর অনুসন্ধানে এক দশকের স্থবিরতা দেখা দেয়।
প্রথম পর্যায় (১৯৭৪-১৯৯০): শেল ও ইউনোক্যালের মতো বৈশ্বিক জায়ান্টরা প্রাথমিক জরিপ করলেও প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতা ও তথ্যের অভাবে উল্লেখযোগ্য সফলতা পায়নি। সাঙ্গুর সাফল্য ও দ্রুত অবসান (১৯৯৬-২০১৪): ৯০-এর দশকে কেয়ার্ন এনার্জি বঙ্গোপসাগরে ‘সাঙ্গু’ গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কার করে। ১৯৯৬ সালে বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু হলেও সঠিক ব্যবস্থাপনা





