শাহজালাল বিমানবন্দরে খোলা আকাশের নিচে নষ্ট হচ্ছে আমদানি পণ্য

প্রকাশ:

হজরত শাহজালাল (রহ.) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজে অগ্নিকাণ্ডের ৯ মাস পেরিয়ে গেলেও এখনো স্থায়ী আমদানি কার্গো শেড নির্মাণ করা সম্ভব হয়নি। গত বছরের ১৮ অক্টোবর ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে কার্গো ওয়্যারহাউজ পুড়ে যাওয়ার পর থেকেই এই সংকট চলছে। শেডটি দ্রুত সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও কাজের গতি অত্যন্ত ধীর হওয়ায় কার্গো ভিলেজের ধারণক্ষমতা অনেক কমে গেছে। বর্তমানে কয়েকদিনের টানা বৃষ্টিতে খোলা আকাশের নিচে পড়ে থাকা শত শত টন আমদানি পণ্য ভিজে নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়েছে।

বিমানবন্দর সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিন গড়ে ৪৫ থেকে ৫০টি ফ্লাইট অবতরণ করে। এর মধ্যে ৪০ থেকে ৪৫টি নিয়মিত যাত্রীবাহী ফ্লাইট এবং ৫ থেকে ৮টি চার্টার কার্গো ফ্লাইট রয়েছে। নিয়মিত ফ্লাইটের পণ্য ২৪ ঘণ্টার মধ্যে যাচাই-বাছাই শেষে নোটিশ অব অ্যারাইভাল (এনওএ) দেওয়া হলেও চার্টার কার্গো ফ্লাইটের ক্ষেত্রে ৩-৪ দিন সময় লেগে যায়। প্রতিদিন প্রায় ৩৫০-৪০০ টন কার্গো আসায় প্রায় ১ হাজার ৫০০ টন পণ্য এনওএ-এর অপেক্ষায় জমে থাকে। এরপর পণ্য খালাসের প্রক্রিয়ায় আরও ৩-৪ দিন সময় লাগায় পুরো সরবরাহ ব্যবস্থায় দীর্ঘসূত্রতা তৈরি হচ্ছে।

ঢাকা কাস্টমস এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সহসভাপতি খায়রুল কবির ভূঁইয়া মিঠু জানান, আধুনিক ওয়্যারহাউজ ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম, বারকোড বা আরএফআইডি-ভিত্তিক ট্র্যাকিং ব্যবস্থা না থাকায় পণ্য খুঁজে বের করা ও ডেলিভারিতে অস্বাভাবিক বিলম্ব হচ্ছে। তিনি বলেন, খোলা আকাশের নিচে পণ্য পড়ে থাকায় বৃষ্টির পানি এবং আর্দ্রতায় কোটি কোটি টাকার আমদানি পণ্য নষ্ট হচ্ছে, যা ব্যবসায়ীদের জন্য বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এতে শিল্পকারখানার কাঁচামাল সরবরাহ ও উৎপাদন প্রক্রিয়াও ঝুঁকিতে পড়ছে।

বাংলাদেশ ফ্রেইট ফরোয়ার্ডার্স অ্যাসোসিয়েশনের এক সদস্যের মতে, অগ্নিকাণ্ডের পর সিভিল এভিয়েশন মাত্র ১০০ টন ধারণক্ষমতার সংস্কার করেছে, যেখানে প্রতিদিন প্রায় ৬০০ টন কার্গো আসে। ফলে বাকি পণ্য খোলা জায়গায় স্তূপ করে রাখতে হচ্ছে।

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের মুখপাত্র বোসরা ইসলাম জানিয়েছেন, বৃষ্টিপাত একটি প্রাকৃতিক বিষয় এবং অনেক আমদানিকারক সময়মতো পণ্য খালাস না করায় কার্গো এলাকায় চাপ বাড়ছে। বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন রাগীব সামাদ জানান, সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট ও রিসিপিয়েন্টরা দ্রুত পণ্য খালাস না করায় জায়গা সংকট তৈরি হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, সীমাবদ্ধতা থাকলেও থার্ড টার্মিনাল চালু না হওয়া পর্যন্ত এই সংকট পুরোপুরি নিরসন করা কঠিন।

শেয়ার করুন