উজান থেকে নেমে আসা ঢলে যমুনা নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় বগুড়ার ধুনট উপজেলার ভান্ডারবাড়ি ইউনিয়নের শহড়াবাড়ি স্পার এলাকার ৩০ মিটার অংশ ধসে গেছে। শুক্রবার সকালের দিকে এই ভাঙন দেখা দেয়। এই ঘটনার ফলে বানিয়াজান থেকে শহড়াবাড়ি পর্যন্ত নদী তীরবর্তী প্রায় এক কিলোমিটার এলাকায় তীব্র ভাঙন আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে এবং বাঁধে আশ্রয় নেওয়া শত শত পরিবার চরম শঙ্কার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে।
বগুড়া পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্রে জানা যায়, ২০০৩ সালে প্রায় ৬ কোটি টাকা ব্যয়ে শহড়াবাড়ি ও বানিয়াজান অংশে দুটি স্পার নির্মাণ করা হয়েছিল। ২০২১ সালে বানিয়াজান স্পারের একটি অংশ ধসে পড়ার পর এবার শহড়াবাড়ির উজানে নতুন করে এই ভাঙন দেখা দিল। খবর পেয়ে পাউবোর বগুড়ার নির্বাহী প্রকৌশলী মাহমুদ হাসান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। তিনি জানান, বাঁধের ঝুঁকিপূর্ণ অংশ রক্ষায় তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা হিসেবে জিও টিউব ও জিও টেক্সট ব্যাগ ফেলা হয়েছে, যা এখন অনেকটা ঝুঁকিমুক্ত।
স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে ভাঙন শুরু হলে কর্তৃপক্ষ তোড়জোড় শুরু করে, যা সরকারি অর্থের অপচয় ছাড়া আর কিছু নয়। তাদের দাবি, শুষ্ক মৌসুমে আগাম কোনো প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা না নেওয়ায় কোটি টাকা ব্যয় করেও সুফল পাওয়া যাচ্ছে না। এছাড়া প্রভাবশালীরা বছরজুড়ে নদীতীর থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করায় বাঁধের এই নাজুক অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
এ বিষয়ে ধুনট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আরিফ উল্লাহ নিজামী জানান, নদীতীরবর্তী বাসিন্দাদের অভিযোগের ভিত্তিতে বালু উত্তোলনকারীদের বিরুদ্ধে বেশ কয়েকবার অভিযান চালানো হয়েছে। এর আগে বৈশাখী চর, রাঁধানগর, বথুয়ারভিটা, নিউসারিয়াকান্দি, আটারচর, পুকুরিয়া, ভূতবাড়ি ও কৈয়াগাড়িসহ ৮ থেকে ১০টি জনপদ যমুনার ভাঙনে নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। স্থানীয় কৃষক খোকা মিয়া জানান, গত কয়েক দিনের ভাঙনে অনেক আবাদি জমি ও ফসল বিলীন হওয়ায় অনেকেই নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন।




