২০১৩ সালের মতিঝিলের শাপলা চত্বর হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দায়ের করা মামলার তদন্তের খসড়া প্রতিবেদন হাতে পেয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন। এই খসড়া প্রতিবেদনে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ এবং সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদসহ ৪০ জনের বেশি ব্যক্তিকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
রোববার (১৯ জুলাই) মামলার বর্তমান অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে হেফাজতে ইসলামের শীর্ষ নেতাসহ ১৪ থেকে ১৫ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলামের কার্যালয়ে যান। এ সময় চিফ প্রসিকিউটর তদন্তের খসড়া প্রতিবেদন পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, রোববার সকালে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা এই প্রতিবেদন জমা দিয়েছে এবং বর্তমানে তা পর্যালোচনার কাজ চলছে। নির্ধারিত সময় অনুযায়ী চলতি সপ্তাহেই আনুষ্ঠানিকভাবে ট্রাইব্যুনালে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হবে।
তদন্তে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ২০১৩ সালের ৫ মে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশকে কেন্দ্র করে ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, কুমিল্লা ও চট্টগ্রামে মোট ৫৮ জন নিহত হয়েছেন। তবে তদন্তের স্বার্থে অভিযুক্ত ৪০ জনের বেশি ব্যক্তির পূর্ণাঙ্গ তালিকা এখনই প্রকাশ করা হয়নি। প্রসিকিউশনের আশঙ্কা, তালিকাটি প্রকাশ করলে অভিযুক্তদের কেউ কেউ আত্মগোপনে চলে যেতে পারেন।
অভিযুক্তদের তালিকায় একাত্তর টেলিভিশনের সাবেক প্রধান সম্পাদক মোজাম্মেল বাবু, সাবেক প্রধান প্রতিবেদক ফারজানা রূপা এবং ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সাবেক সভাপতি ও সাংবাদিক শাহরিয়ার কবিরের নাম রয়েছে। এছাড়া তৎকালীন পুলিশ, র্যাব এবং ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) শীর্ষ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধেও সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আনা হয়েছে।
উল্লেখ্য যে, ২০১৩ সালের ৫ মে রাতে মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের মহাসমাবেশ চলাকালে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযান চালানো হয়। অভিযোগ রয়েছে, রাত ১১টার পর বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে পুলিশ, র্যাব ও বিজিবি যৌথভাবে অভিযান পরিচালনা করে। সেই অভিযানে গুলি, সাউন্ড গ্রেনেড, লাঠিচার্জ ও বলপ্রয়োগের ঘটনায় অনেকে হতাহত হন এবং সমাবেশটি ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়।





