দেশে ফিরলেই গ্রেপ্তার হবেন শেখ হাসিনা: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ

প্রকাশ:

চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারত থেকে দেশে ফিরলেই গ্রেপ্তার হবেন। বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ এ মন্তব্য করেন। তিনি স্পষ্ট করেন যে, শেখ হাসিনার এখন আর আত্মসমর্পণের কোনো সুযোগ নেই। প্রতিমন্ত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, যেহেতু তার বিরুদ্ধে সাজা হয়ে গেছে, তাই আইনত একজন আসামির আত্মসমর্পণের সুযোগ আর অবশিষ্ট নেই। সুতরাং, তিনি যখনই বাংলাদেশে আসবেন, আইনগতভাবেই তাকে গ্রেপ্তার করা হবে।

শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে ভারত সরকারের রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক উদ্যোগ প্রয়োজন বলে মনে করেন শামা ওবায়েদ। এ বিষয়ে নয়াদিল্লির সঙ্গে ঢাকার নিয়মিত যোগাযোগ ও চিঠি চালাচালি চলছে জানিয়ে তিনি বলেন, ভারতের কাজ হচ্ছে বাংলাদেশের আহ্বানে সাড়া দেওয়া এবং কূটনৈতিক চ্যানেলে তাকে ফিরিয়ে দেওয়ার বিষয়টি ত্বরান্বিত করা। তবে শেখ হাসিনার ভারতে অবস্থান ঢাকা-নয়াদিল্লির দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে কোনো বিরূপ প্রভাব ফেলবে না বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। শামা ওবায়েদের মতে, দুই দেশের সম্পর্ক বহুমাত্রিক এবং এটি অটুট থাকবে।

তারেক রহমানের নিরাপত্তা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামছুল ইসলামের বিমসটেকের বৈঠকে যোগদানের প্রসঙ্গ টেনে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এটি একটি চলমান প্রক্রিয়া এবং বাংলাদেশের গণতন্ত্র ও ইতিহাসের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি আরও বলেন, জুলাই মাসের এই সময়ে যারা প্রাণ হারিয়েছেন বা আহত হয়েছেন, তাদের পরিবারের জন্য বিচার পাওয়া জরুরি। অপরাধীদের বিচার নিশ্চিত করতে বর্তমান সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করছে এবং যত দ্রুত সম্ভব এই প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করতে চায়।

এক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর শেখ হাসিনা বাংলাদেশ থেকে পালিয়ে ভারতে গেছেন। এখন দাবি উঠেছে যারা সাজাপ্রাপ্ত, তাদের দেশে ফিরিয়ে এনে সাজা কার্যকর করা হোক। শামা ওবায়েদ জানান, প্রত্যর্পণ চুক্তি বা এক্সট্রাডিশন ট্রিটি অনুযায়ী অন্তর্বর্তীকালীন পর্যায় থেকে তারা যোগাযোগ শুরু করেছেন। শেখ হাসিনা এবং হাদি হত্যাকাণ্ডের আসামিসহ যারা ভারতে অবস্থান করছেন, তাদের দেশে ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে বিদ্যমান আইন ও কূটনৈতিক নিয়ম অনুসরণ করা হবে এবং দেশে ফেরার সাথে সাথেই তাদের গ্রেপ্তার করা হবে।

শেয়ার করুন