আটলান্টায় ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ২–১ গোলের জয়ে আর্জেন্টিনা বিশ্বকাপের ফাইনাল নিশ্চিত করার পর দলের অন্দরে এক আবেগঘন পরিবেশ তৈরি হয়। জয়ের পর মাঠে গান, উদ্যাপন আর উল্লাসের পাশাপাশি অনেকের চোখেই ছিল আনন্দাশ্রু। এই আবেগের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন ম্যাচটির জয়সূচক গোলের নায়ক লাওতারো মার্তিনেজ। ম্যাচ শেষে টিওয়াইসি স্পোর্টসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে অশ্রুভেজা কণ্ঠে তিনি জানান, এমন একটি গোল করার স্বপ্ন তিনি অনেক আগে থেকেই লালন করে আসছিলেন।
আবেগ সামলাতে হিমশিম খাওয়া মার্তিনেজ বলেন, বাবা যখন প্রথম তাঁর জন্য এক জোড়া ফুটবল বুট কিনে দিয়েছিলেন, সেই ছোটবেলা থেকেই তিনি এমন একটি গোল করার স্বপ্ন দেখতেন। মায়ের কথা বলতে গিয়ে তিনি আরও আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন। মার্তিনেজ জানান, রেসিং ক্লাবে যোগ দেওয়ার জন্য যেদিন তিনি বাড়ি ছেড়েছিলেন, সেদিন থেকে আজ পর্যন্ত তাঁর মা নিয়মিতভাবে তাঁর বিছানা গুছিয়ে দেন। স্ট্রাইকারের কাছে মায়ের এই মমতা একটি গোল বা ফাইনালের চেয়েও অনেক বেশি মূল্যবান।
নিজের ব্যক্তিগত বিবর্তনের কথা উল্লেখ করে ইন্টার মিলানের এই স্ট্রাইকার জানান, দুই সন্তান তাঁর জীবনকে অনেক বদলে দিয়েছে। তাদের আগমনে তিনি এখন অনেক শান্ত এবং জীবনের মুহূর্তগুলো উপভোগ করতে শিখেছেন। কাতার বিশ্বকাপে গোলশূন্য থাকা মার্তিনেজ এবারের আসরকে নিজেকে প্রমাণ করার মঞ্চ হিসেবে দেখছিলেন। তিনি জানান, ম্যাচের আগেই অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার ও ফাকু মেদিনাকে তিনি কথা দিয়েছিলেন যে, বদলি হিসেবে নেমে তিনি গোল করে দলকে জেতাবেন।
ম্যাচ বিশ্লেষণ করতে গিয়ে মার্তিনেজ বলেন, ইংল্যান্ড প্রায় ৬০ মিনিট ধরে তাদের ওপর প্রবল চাপ সৃষ্টি করেছিল। কিন্তু এরপর তারা আর সেই গতি ধরে রাখতে পারেনি। প্রতিপক্ষ গোল করার পর রক্ষণভাগে মনোযোগী হওয়ায় আর্জেন্টিনা বলের নিয়ন্ত্রণ নিতে সক্ষম হয় এবং ধীরে ধীরে নিজেদের খেলা গুছিয়ে নেয়। শেষ পর্যন্ত গোল পেয়ে আর্জেন্টিনা আবারও বিশ্বকাপের ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে। আগামী রোববার রাতে নিউ জার্সিতে শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে স্পেনের মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা।




