দেশের শীর্ষস্থানীয় টেলিকম কোম্পানি গ্রামীণফোন (জিপি) চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসের জন্য শেয়ারহোল্ডারদের ১০৫ শতাংশ অন্তর্বর্তীকালীন নগদ লভ্যাংশ দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। গত সোমবার কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদের সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর ফলে বিনিয়োগকারীরা শেয়ারপ্রতি সাড়ে ১০ টাকা করে লভ্যাংশ পাবেন। ঘোষিত এই লভ্যাংশ বাবদ কোম্পানিটি মোট ১ হাজার ৪১৮ কোটি টাকা বিতরণ করবে, যা চলতি বছরের প্রথমার্ধের মুনাফার প্রায় সমপরিমাণ।
গত মঙ্গলবার স্টক এক্সচেঞ্জের মাধ্যমে কোম্পানিটি তাদের অর্ধবার্ষিক আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত গ্রামীণফোন ১ হাজার ৪২১ কোটি টাকা মুনাফা করেছে, যা গত বছরের একই সময়ের ১ হাজার ৫১৩ কোটি টাকার তুলনায় ৯২ কোটি টাকা বা ৬ শতাংশের বেশি কম। এই সময়ে কোম্পানিটির মোট আয় হয়েছে ৭ হাজার ৭৪০ কোটি টাকা, যা আগের বছরের একই সময়ের ৭ হাজার ৯৩৮ কোটি টাকা থেকে ১৯৮ কোটি টাকা বা প্রায় আড়াই শতাংশ কম।
মুনাফা কমার পেছনে আয় কমে যাওয়ার পাশাপাশি ব্যয় বৃদ্ধিকে দায়ী করেছে কর্তৃপক্ষ। আর্থিক প্রতিবেদনের তথ্যমতে, গত বছরের প্রথম ছয় মাসের তুলনায় এবার সুদসহ অন্যান্য আর্থিক খরচ ৪৬ কোটি টাকা বেড়ে ৩২৫ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। এছাড়া বেতন-ভাতা বাবদ ২০ কোটি টাকা এবং পরিচালন ও রক্ষণাবেক্ষণ খাতে ১৬ কোটি টাকা ব্যয় বেড়েছে।
ঘোষিত লভ্যাংশের বড় একটি অংশ পাবেন কোম্পানির উদ্যোক্তা ও পরিচালকরা, কারণ কোম্পানির ৯০ শতাংশ শেয়ার তাদের হাতে রয়েছে। সেই হিসেবে তারা পাবেন ১ হাজার ২৭৬ কোটি টাকা। এছাড়া প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা পাবেন ৯৬ কোটি টাকা, ব্যক্তিশ্রেণির সাধারণ বিনিয়োগকারীরা ৪১ কোটি টাকা এবং বিদেশি বিনিয়োগকারীরা ৫ কোটি টাকা লভ্যাংশ পাবেন।
কোম্পানি জানিয়েছে, আগামী ১২ আগস্ট যাদের হাতে গ্রামীণফোনের শেয়ার থাকবে, তারা এই লভ্যাংশ পাওয়ার যোগ্য বলে বিবেচিত হবেন। ওই দিনটি রেকর্ড তারিখ হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে এবং সেদিন শেয়ারবাজারে কোম্পানির লেনদেন বন্ধ থাকবে।
ফলে মুনাফাও কমে গেছে।আর্থিক প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের প্রথম ছয় মাসে কোম্পানিটির সুদসহ অন্যান্য আর্থিক খরচের পরিমাণ ছিল ২৭৯ কোটি টাকা।




