সামরিক মহড়ার নামে আল-আকসার ফটক বন্ধ করলো ইসরাইলি বাহিনী

প্রকাশ:

অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেমের আল-আকসা মসজিদের একটি ফটক মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেয় ইসরাইলি বাহিনী। ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের মতে, সামরিক মহড়ার অজুহাতে এই পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে, যার ফলে মুসল্লিদের মসজিদে প্রবেশে মারাত্মক বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে। ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের জেরুজালেম গভর্নরেট এক বিবৃতিতে নিশ্চিত করেছে যে, ইসরাইলি বাহিনী আল-আকসা মসজিদ প্রাঙ্গণে প্রায় ৩০ মিনিটব্যাপী সামরিক মহড়া পরিচালনা করেছে। যদিও শুধুমাত্র কিং ফয়সাল গেটটি বন্ধ রাখা হয়েছিল, তবে মসজিদের অন্যান্য প্রবেশপথেও অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়, যা সাধারণ মুসল্লিদের স্বাভাবিক চলাচলে বাধা হয়ে দাঁড়ায়।

সাম্প্রতিক সময়ে আল-আকসা মসজিদকে ঘিরে ইসরাইলের নিরাপত্তা বিধিনিষেধ ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। চলতি বছরের শুরুতে ইরানের সঙ্গে উত্তেজনার সময় নিরাপত্তার অজুহাতে ইসরাইল নজিরবিহীনভাবে ৪০ দিনের জন্য মসজিদটি বন্ধ করে দেয়। সেই সময় ফিলিস্তিনি মুসল্লিরা জুমার নামাজ, রমজানের তারাবি এবং ঈদুল ফিতরের নামাজে অংশ নিতে পারেননি। ফিলিস্তিনি কর্মকর্তারা এই পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করে একে নিরাপত্তাজনিত প্রয়োজনীয়তার পরিবর্তে মসজিদের ইসলামী পরিচয় ক্ষুণ্ন করার এবং “ইহুদিকরণ” এগিয়ে নেয়ার প্রচেষ্টা হিসেবে অভিহিত করেছেন। ফিলিস্তিনের আওকাফ ও ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, জুন মাসে ইসরাইলি বাহিনী ২৬ বার আল-আকসা প্রাঙ্গণে অভিযান চালায় এবং ৪ হাজার ২১২ জন বসতি স্থাপনকারী কঠোর পুলিশি পাহারায় সেখানে প্রবেশ করেন।

দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে ১ লাখ ৪৪ হাজার বর্গমিটারের এই এলাকাটি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত “স্ট্যাটাস কো” ব্যবস্থার অধীনে জর্ডানের তত্ত্বাবধানে ইসলামিক ওয়াকফ কর্তৃপক্ষ পরিচালনা করে আসছে। এই ব্যবস্থায় অমুসলিমরা নির্ধারিত সময়ে পরিদর্শন করতে পারলেও নামাজ আদায়ের অধিকার কেবল মুসলমানদের জন্য সংরক্ষিত। ফিলিস্তিনিদের অভিযোগ, ১৯৬৭ সালে পূর্ব জেরুজালেম দখলের পর থেকে ইসরাইল ধীরে ধীরে এই ব্যবস্থাকে দুর্বল করছে। তারা ওয়াকফ কর্তৃপক্ষের রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রম সীমিত করা, কর্মীদের অনুমতিপত্র বাতিল এবং দীর্ঘদিনের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে ইহুদিদের প্রার্থনার সুযোগ দেয়ার মাধ্যমে প্রশাসনিক ক্ষমতা খর্ব করার চেষ্টা চালাচ্ছে। এছাড়া গত মে মাসে মিডল ইস্ট আইয়ের প্রতিবেদন অনুযায়ী, আল-আকসার ওপর জর্ডানের ঐতিহাসিক অভিভাবকত্ব বাতিলের লক্ষ্যে ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্র সক্রিয় রয়েছে বলে দাবি করা হলেও ওয়াশিংটন তা অস্বীকার করেছে।

শেয়ার করুন