২৩ কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

লড়াইয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছেন ট্রাম্প -: স্টিফেন মিলারকে চিফ অব স্টাফ নিয়োগ

প্রকাশ:

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প তার হোয়াইট হাউসের চিফ অব স্টাফ হিসেবে স্টিফেন মিলারকে মনোনীত করেছেন। এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে ট্রাম্প মার্কিন অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে নতুন করে শক্ত অবস্থান তৈরির বার্তা দিলেন। ধারণা করা হচ্ছে, নতুন ডেমোক্রেট নিয়ন্ত্রিত কংগ্রেসের সঙ্গে রাজনৈতিক লড়াইয়ের প্রস্তুতির অংশ হিসেবেই মিলারকে এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে আনা হয়েছে। এর আগে রিপাবলিকান পার্টির হতাশাজনক ফলের পরপরই সুসি ওয়াইলস চিফ অব স্টাফের পদ থেকে ইস্তফা দেন। সিএনএন ও বিবিসির তথ্য অনুযায়ী, নির্বাচনে দুই কক্ষের আধিপত্য হারানোর কারণে দলের কৌশল নিয়ে ট্রাম্প অত্যন্ত অসন্তুষ্ট ছিলেন এবং তার তোপের মুখেই ওয়াইলস দায়িত্ব ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেন। আগামী সোমবার থেকে মিলার আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করবেন।

নির্বাচন পরবর্তী এই বড় রদবদল নিয়ে ট্রাম্প শুক্রবার ফ্লোরিডায় এক অনুষ্ঠানে বলেন, মিলার শুরু থেকেই তার সঙ্গে আছেন এবং তিনি রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত দক্ষ। ট্রাম্প আরও জানান, ওয়াইলস তার অন্যান্য রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকবেন এবং এই পরিবর্তনের সঙ্গে নির্বাচনের কোনো যোগসূত্র নেই। তবে হোয়াইট হাউসের অভ্যন্তরীণ সূত্রের দাবি, নির্বাচনের রাতেই ট্রাম্প তার ক্ষোভ ঝেড়েছিলেন এবং হারের দায় ওয়াইলসের ওপর চাপিয়েছিলেন। এছাড়া ব্যক্তিগতভাবে স্তন ক্যান্সারের চিকিৎসার কারণে ওয়াইলস কঠিন সময় পার করছেন। তিনি প্রথম নারী চিফ অব স্টাফ হিসেবে ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদের যে কোনো সহযোগীর চেয়ে বেশি সময় টিকে ছিলেন।

মিলার মূলত ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর অভিবাসন নীতির প্রধান রূপকার হিসেবে পরিচিত। তিনি অতীতে অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগকারী সংস্থা বা আইস কর্মকর্তাদের প্রতিদিন তিন হাজার অভিবাসীকে গ্রেপ্তারের নজিরবিহীন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে দিয়েছিলেন। ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটির এক কর্মকর্তা মন্তব্য করেছেন, মিলারের নিয়োগের মাধ্যমে ট্রাম্প তার পুরনো ধারায় ফিরে এলেন। মিলারের স্ত্রী কেটি মিলার এই নিয়োগের পেছনে পর্দার আড়ালে কাজ করেছেন বলে শোনা যাচ্ছে। এই রদবদলের ফলে কঠোর অভিবাসন নীতি আরও জোরদার হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

মিলারকে নিয়ে ডেমোক্রেট শিবিরে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। হাউস লিডার হেকিম জেফরিস তাকে বিপজ্জনক বহিরাগত-বিদ্বেষী ও চরমপন্থী হিসেবে অভিহিত করেছেন। অতীতে মিনিয়াপোলিসে অভিবাসন কর্মকর্তাদের গুলিতে নিহত অ্যালেক্স প্রেটিকে অভ্যন্তরীণ সন্ত্রাসী বলে মন্তব্য করে মিলার বিতর্কিত হয়েছিলেন। এছাড়া ভেনিজুয়েলা ও ক্যারিবিয়ান অঞ্চলে মাদকবিরোধী সামরিক অভিযানের সময় তার ভূমিকা বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের অভিযোগে নিন্দিত হয়েছিল।

মিলারকে নিয়ে রিপাবলিকান দলের মধ্যেও বিভক্তি দেখা দিয়েছে। প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ এই নিয়োগে সন্তোষ প্রকাশ করে বলেছেন, মিলার কখনো পিছু হটেন না। তবে নর্থ ক্যারোলাইনার সেনেটর থম টিলিস তাকে অযোগ্য বললেও ইউটাহর মাইক লি তাকে রক্ষণশীল যোদ্ধা হিসেবে প্রশংসা করেছেন। এছাড়া সম্প্রতি নবনির্বাচিত ডেমোক্রেট সেনেটর জেমস টালারিকোকে ট্রান্সজেন্ডার প্রার্থী বলে কটূক্তি করে সমালোচিত হয়েছিলেন মিলার। সব মিলিয়ে, তার এই নিয়োগ নতুন কংগ্রেসে আইন প্রণয়ন ও রাজনৈতিক সমঝোতার ক্ষেত্রে বড় ধরনের সংঘাতের পথ তৈরি করেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

শেয়ার করুন