যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য পারমাণবিক হামলার গুঞ্জনের মধ্যেই নিজেদের নাগরিকদের জন্য বিশেষ সতর্কতামূলক নির্দেশিকা জারি করেছে ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন। সম্প্রতি সম্প্রচারিত এই নির্দেশনায় পারমাণবিক বিস্ফোরণের জরুরি মুহূর্তে তেজস্ক্রিয়তা থেকে সুরক্ষায় নাগরিকদের করণীয় সম্পর্কে পাঁচটি প্রধান পয়েন্ট তুলে ধরা হয়েছে। টিভিতে প্রচারিত এই নির্দেশিকায় পাঁচটি প্রধান সতর্কতার কথা আছে। শেষ কিছু দিন ধরেই বিষয়টা আছে আলোচনায়। ইরানে পারমাণবিক হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র।
নির্দেশিকা অনুযায়ী, পারমাণবিক বিস্ফোরণের প্রথম মুহূর্তেই আলো তীব্র হয়ে উঠলে তার দিকে সরাসরি তাকানো থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে। তাৎক্ষণিকভাবে কোনো শক্ত আড়ালের পেছনে আশ্রয় নিয়ে মাটিতে উপুড় হয়ে শুয়ে মাথা ও মুখ ঢেকে রাখতে হবে এবং বিস্ফোরণের প্রাথমিক তীব্র ধাক্কা না থামা পর্যন্ত এভাবেই অবস্থান করতে হবে।
বিস্ফোরণের প্রাথমিক ধাক্কা কাটার পর নিকটস্থ কোনো শক্ত ভবনের ভেতরে চলে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। তবে ভবনে ঢোকার পর জানালা ও বাইরের দেয়াল থেকে যথাসম্ভব দূরে অবস্থান করতে হবে। এ সময় বাইরে থেকে দৃশ্য দেখার চেষ্টা করা, ছবি তোলা কিংবা গাড়িকে আশ্রয় হিসেবে ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকতে সতর্ক করা হয়েছে। দ্বিতীয় নির্দেশ, ধাক্কা থেমে গেলে কাছের কোনো ভবনে ঢুকে পড়তে হবে। বাইরে দাঁড়িয়ে ঘটনা দেখা বা ছবি তোলা ঠিক নয়।
তেজস্ক্রিয় ধুলোবালি থেকে সুরক্ষায় শরীরের খোলা ত্বক কুসুম গরম পানি ও সাবান দিয়ে ভালো করে ধোয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মাথার চুলে সাধারণ শ্যাম্পু ব্যবহার করতে বলা হলেও কন্ডিশনার ব্যবহারে নিষেধ করা হয়েছে। তাৎক্ষণিক গোসলের সুযোগ না থাকলে মুখ, হাত ও খোলা অংশ পানি বা ভেজা টিস্যু দিয়ে মুছে নিতে বলা হয়।
জরুরি সতর্কতায় স্পষ্ট করা হয়েছে যে, বিস্ফোরণের পর অন্তত ২৪ ঘণ্টা ঘর বা আশ্রয়ে অবস্থান করা বাধ্যতামূলক। এই সময়ে ব্যবহারের জন্য বোতলজাত পানি ও প্রক্রিয়াজাত প্যাকেট খাবারের ওপর নির্ভর করতে বলা হয়েছে। তবে ২৪ ঘণ্টা পার হলেই চারপাশ নিরাপদ হয়ে গেছে বলে ধরে নেওয়া যাবে না। ভবনে আগুন বা ধসে পড়ার ঝুঁকি থাকলে নিরাপদ স্থানে সরতে হবে এবং জরুরি সরকারি বেতার বা টিভির সম্প্রচার শুনেই বাইরে বের হওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
এর আগে গত ২৯ অক্টোবর ইরানের সংবাদ সংস্থা ইরনা প্রায় আট মিনিটের একটি বিশেষ ভিডিও প্রকাশ করে। সরকারিভাবে বিষয়টিকে বার্ষিক ‘প্যাসিভ ডিফেন্স সপ্তাহ’-এর অংশ হিসেবে দাবি করা হলেও এটি ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের জুনের সংঘাতের সময় ইরানের সরকার জানিয়েছিল যে তেজস্ক্রিয়তা নির্দিষ্ট স্থাপনার বাইরে ছড়ায়নি, তবে বর্তমানের এই সরাসরি নির্দেশিকাটি আগের বার্তার চেয়ে অনেকটাই ভিন্ন।





