১৭ কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চাকরি মেলায় রেকর্ড নিবন্ধন: ৩৫ হাজার প্রার্থীর স্বপ্নপূরণের অপেক্ষা

প্রকাশ:

দেশে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে উচ্চশিক্ষিত তরুণদের মধ্যে বেকারত্বের হার ২৫ শতাংশ এবং সামগ্রিকভাবে এই হার ১৩ দশমিক ৫৪ শতাংশ। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) এমন উদ্বেগজনক পরিসংখ্যানের বিপরীতে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করতে রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে এক দিনের চাকরি মেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে। জাতীয় যুব দিবস উপলক্ষে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে আয়োজিত এই মেলায় আজ রোববার দুপুর পর্যন্ত অন্তত ৩৫ হাজার চাকরিপ্রার্থী নিবন্ধন করেছেন। ইউরোপের ঘণ্টাপ্রতি বেতন যে ১০ দেশে সবচেয়ে বেশি।

সকালে অনুষ্ঠানের উদ্বোধনী পর্ব শেষে মেলায় অংশ নেওয়া ৫৫টি প্রতিষ্ঠান তাদের ২৭২টি পদের বিপরীতে জীবনবৃত্তান্ত বা সিভি সংগ্রহ শুরু করে। আয়োজকদের লক্ষ্য হলো, এই মেলার মাধ্যমে পর্যায়ক্রমে তিন হাজার থেকে পাঁচ হাজার কর্মপ্রত্যাশীর চাকরির সুযোগ তৈরি করা। মেলায় আসা বিডিজবসের প্রোগ্রাম হেড ও মেলার সমন্বয়ক মোহাম্মদ আলী ফিরোজ জানিয়েছেন, চাকরিপ্রার্থীরা কোনো ধরনের জটিলতা ছাড়াই সরাসরি নিয়োগদাতাদের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ পাচ্ছেন এবং মেলা চলাকালীন প্রায় ১০০ জন প্রার্থীর তাৎক্ষণিক চাকরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আশুগঞ্জ পাওয়ার স্টেশনে ৯০ জনের চাকরি, অনলাইনে আবেদন শুরু ২ নভেম্বর। সকালে জাতীয় যুব দিবসের অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। চাকরির বাজারে নিজেদের জায়গা খুঁজছেন দুই বন্ধু।

প্রযুক্তিনির্ভর এই মেলায় সিভি জমা দেওয়ার প্রক্রিয়াটিকে বেশ সহজ করা হয়েছে। অধিকাংশ স্টলেই ডিজিটাল কিউআর কোড ব্যবহার করা হচ্ছে, ফলে প্রার্থীরা মুঠোফোনের মাধ্যমে মুহূর্তেই আবেদন সম্পন্ন করতে পারছেন। সি পি গ্রুপের মানবসম্পদ সমন্বয়ক সামিয়া আক্তার ববি জানান, পাঁচ ধরনের পদের বিপরীতে আসা সিভিগুলো মেলা শেষে যাচাই-বাছাই করা হবে এবং যোগ্য প্রার্থীদের পরবর্তী নিয়োগপ্রক্রিয়ায় ডাকা হবে। মেলার স্টলগুলো ঘুরে দেখা যায়, অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানই সিভি জমা নেওয়ার ক্ষেত্রে ডিজিটাল পদ্ধতি ব্যবহার করছে। স্টলের সামনে রাখা বড় বিলবোর্ডে রয়েছে কিউআর কোড।

চাকরিপ্রার্থীরা এই উদ্যোগটিকে স্বাগত জানালেও এর পরিধি বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন। ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির স্নাতকোত্তর শেষ করা রাতিয়া নাহার ও সানজানা রহমান পাঁচটি প্রতিষ্ঠানে সিভি জমা দিয়েছেন। তাঁরা বলেন, শুধু এক দিনের আয়োজন না রেখে সারা বছর এবং শহরের বিভিন্ন স্থানে এ ধরনের মেলার নিয়মিত আয়োজন করা প্রয়োজন। সেই সঙ্গে সিবি জমা দেওয়ার পাশাপাশি তাৎক্ষণিক সাক্ষাৎকার ও নিয়োগের প্রক্রিয়া চালু করলে উভয় পক্ষেরই সময় বাঁচত বলে তাঁদের মত। ২০২৬ সালে স্নাতকোত্তর শেষ করেছেন তাঁরা। রাতিয়া ও সানজানা বলেন, ‘আমাদের মতো সদ্য পড়াশোনা শেষ করা তরুণদের জন্য এ আয়োজন ভালো উদ্যোগ।

সরকারি নিয়োগপ্রক্রিয়া নিয়ে মেলায় আসা তরুণদের মধ্যে কিছুটা অস্বস্তিও লক্ষ্য করা গেছে। দীর্ঘসূত্রতা ও অনিয়মের অভিযোগ তুলে তাঁরা বলেন, সরকারি চাকরিতেও যদি এমন স্বচ্ছ ও প্রযুক্তিনির্ভর আধুনিক পদ্ধতি অবলম্বন করা হয়, তবে নিয়োগপ্রক্রিয়া আরও সহজ ও গ্রহণযোগ্য হবে।

উল্লেখ্য, মেলায় সিভি জমা দেওয়া মানেই চাকরি নিশ্চিত হওয়া নয়। প্রতিটি প্রতিষ্ঠান তাদের নিজস্ব নিয়োগ নীতিমালা অনুযায়ী আবেদনপত্রগুলো যাচাই-বাছাই করবে। তাই দিনের শেষে ঠিক কতজন তরুণ এই মেলা থেকে নতুন কর্মসংস্থান পাবেন, তা এখন দেখার বিষয়। বেসরকারি সংস্থায় বড় নিয়োগ, পদ ১৭৮২।

শেয়ার করুন