১২ কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মাদারীপুরে মসজিদ কমিটি নিয়ে সংঘর্ষ, বাড়িঘরে আগুন ও লুটপাট

প্রকাশ:

মাদারীপুর সদর উপজেলার বাহেরান্দী গ্রামে মসজিদের কমিটি গঠন নিয়ে সৃষ্ট বিরোধের জেরে দুই পক্ষের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। বুধবার ভোর থেকে সকাল ৮টা পর্যন্ত চলা এই সহিংসতায় এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বর্তমানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রাখা হয়েছে।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, তিন মাস আগে বাহেরান্দী জামে মসজিদের কমিটি গঠন করা হয়, যেখানে স্থানীয়রা মোশাররফ ফকিরকে সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত করেন। তবে একই এলাকার বাচ্চু মোড়ল এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেন এবং নিজের সভাপতি পদের দাবি জানান। এই বিরোধের জেরে বুধবার ভোরে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে বাচ্চু মোড়লের সমর্থকরা মাতুব্বরবাড়ি, সর্দারবাড়ি ও ফকিরবাড়িতে হামলা চালায়। এরই জেরে বুধবার ভোরে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রসহ শতাধিক লোক নিয়ে বাচ্চু মোড়লের কর্মী-সমর্থকেরা মাতুব্বরবাড়ি, সর্দারবাড়ি ও ফকিরবাড়িতে হামলা চালান।

হামলাকারীরা মিনজাল জমাদ্দার, রবিউল মাতুব্বর, ফারুক মাতুব্বর, বোরহান মাতুব্বর ও এমদাদ মাতুব্বরসহ সাতজনের বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়। পাশাপাশি আরও অন্তত তিনটি বাড়ির প্রায় ৪০টি ঘরে ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ পাওয়া গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত এমদাদ মাতুব্বর জানান, এই তাণ্ডবে গ্রামগুলো কার্যত ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে এবং ৪০ থেকে ৫০টি বাড়ি হামলার শিকার হয়েছে। এ সময় মিনজাল জমাদ্দার, রবিউল মাতুব্বর, ফারুক মাতুব্বর, বোরহান মাতুব্বর ও এমদাদ মাতুব্বরসহ ৭ জনের ঘরে আগুন দেওয়া হয়। পুরো তিনটি গ্রাম যেন ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে।

সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কামাল আজাদ জানান, মসজিদ কমিটি গঠন নিয়ে গত কয়েক দিন ধরেই এলাকায় উত্তেজনা চলছিল। ঘটনার খবর পাওয়ার পর অতিরিক্ত পুলিশ সুপারসহ তারা দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ৪০ রাউন্ড রবার বুলেট নিক্ষেপ করেন। ওসি আরও বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ দায়ের করলে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। পরে সদর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

সাবেক ইউপি সদস্য জাহিদ হাওলাদার এই পরিস্থিতির জন্য বিস্ময় প্রকাশ করে জানান, একটি মসজিদ কমিটিকে কেন্দ্র করে এমন সহিংসতা হবে তা তাদের কল্পনার বাইরে ছিল। এদিকে ঘটনার পরপরই অভিযুক্ত বাচ্চু মোড়ল ও তার সঙ্গীরা এলাকা ছেড়ে গা ঢাকা দেওয়ায় তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। বর্তমানে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে এবং ক্ষতিগ্রস্তরা ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেছেন।

শেয়ার করুন