বিশ্বকাপের পরপরই আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে বিদায় নিচ্ছেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো—এমন জল্পনা-কল্পনা সরাসরি উড়িয়ে দিয়েছেন পর্তুগিজ এই মহাতারকা। এর আগে রোনালদোর বড় বোন কাতিয়া আভেইরো পর্তুগিজ সংবাদমাধ্যম ‘স্পোর্ট টিভি’র কাছে দাবি করেছিলেন যে, চলতি বিশ্বকাপই রোনালদোর ক্যারিয়ারের ‘লাস্ট ড্যান্স’ বা শেষ আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট। ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে শেষ বত্রিশের ম্যাচের ঠিক আগে এই মন্তব্য করেছিলেন তিনি।
তবে ক্রোয়েশিয়াকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়ে পর্তুগাল যখন শেষ ষোলো নিশ্চিত করে, তখন ৪১ বছর বয়সি রোনালদো অবসরের সব গুঞ্জন নাকচ করে দেন। তিনি জানান, এই মুহূর্তে অবসরের বিষয়টি তার কাছে মোটেও গুরুত্বপূর্ণ নয়। রোনালদো বলেন, টুর্নামেন্টে জয় বা হারের পর এ নিয়ে কথা বলার অনেক সময় পাওয়া যাবে। তিনি আরও জানান, পরিবারের সঙ্গে আলোচনা করেই তিনি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন। আবেগের বশে কোনো সিদ্ধান্ত না নিয়ে বরং শান্ত মাথায় সবকিছু বিবেচনা করার ওপর জোর দেন এই তারকা। বর্তমানে তার একমাত্র লক্ষ্য হলো জাতীয় দলকে সাহায্য করা এবং বর্তমান সময়কে উপভোগ করা।
এদিকে, সমালোচকদের সব গুঞ্জন পেছনে ফেলে ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষের ম্যাচে বেশ কিছু মাইলফলক স্পর্শ করেছেন রোনালদো। ক্যারিয়ারে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে গোলের খরা কাটিয়েছেন তিনি। ৪১ বছর ১৪৭ দিন বয়সে গোল করে লিওনেল মেসিকে টপকে ফিফা বিশ্বকাপের নকআউট পর্বের ইতিহাসের সবচেয়ে বয়স্ক গোলদাতার রেকর্ড এখন তার দখলে।
এই পেনাল্টি গোলের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ফুটবলে পুরুষদের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় নিজের রেকর্ড আরও সমৃদ্ধ করে ১৪৬টিতে উন্নীত করেছেন তিনি। তার পেশাদার ক্যারিয়ারের মোট গোল সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৯৭৬-এ, যেখানে লক্ষ্য এখন ১,০০০ গোল ছোঁয়া। উল্লেখ্য, ম্যাচের শেষ মুহূর্তে গনসালো রামোসের নাটকীয় গোলে ২-১ ব্যবধানে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে পর্তুগাল। কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে এখন বর্তমান ইউরো চ্যাম্পিয়ন স্পেনের মুখোমুখি হবে পর্তুগিজরা।

