৬ কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আইএসপিআর: সাজেকে ইউপিডিএফ ৩০-৪০ রাউন্ড নিরাপত্তা ঘটনায় করে

প্রকাশ:

পার্বত্য জেলা রাঙামাটির জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র সাজেকে ঘটে যাওয়া সংঘাতময় পরিস্থিতির জন্য ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ)-কে দায়ী করেছে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর)। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে ৪টায় এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, গঙ্গারাম বাজার এলাকায় ইউপিডিএফের সশস্ত্র সদস্যরা স্থানীয় বাসিন্দাদের মানবঢাল হিসেবে ব্যবহার করে সড়ক অবরোধ সৃষ্টি করে। এর ফলে সাজেক-বাঘাইহাট সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায় এবং সেখানে ভ্রমণরত প্রায় তিন হাজার পর্যটক অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন। বৃহস্পাতিবার (২২ অক্টোবর) বিকাল সাড়ে ৪টায় দেওয়া এক সংবাদ বিবৃতিতে আইএসপির এক কথা বলেছে।

পরিস্থিতি মোকাবিলায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও পুলিশ যৌথভাবে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করে। উদ্ধার কার্যক্রমের অংশ হিসেবে সকাল ১০টার দিকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর টহল দল অবরোধকারীদের সঙ্গে আলোচনার উদ্যোগ নেয়। তবে আলোচনার এক পর্যায়ে সকাল ১০টা ৪৫ মিনিটে ইউপিডিএফের প্ররোচনায় অবরোধকারীরা হঠাৎ পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যসহ পর্যটকদের লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছুড়তে শুরু করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বাহিনীটি লাঠিচার্জ করে অবরোধকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয় এবং যানবাহন চলাচলের পথ সুগম করার চেষ্টা করে। এতে আরও বলা হয়, উদ্ভূত পরিস্থিতিতে আটকে পড়া পর্যটকদের নিরাপদে খাগড়াছড়িতে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও পুলিশ যৌথভাবে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করে।

আইএসপিআর জানায়, পরবর্তীতে বেলা ১১টার দিকে ইউপিডিএফের সশস্ত্র সদস্যরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও পর্যটকদের লক্ষ্য করে ৩০ থেকে ৪০ রাউন্ড গুলিবর্ষণ করে। নিজেদের রক্ষা এবং পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সেনাবাহিনীর টহল দল পাল্টা গুলি চালায়, যার ফলে সশস্ত্র ব্যক্তিরা পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়। সেনাবাহিনীর তৎপরতা ও পুলিশের সমন্বিত প্রচেষ্টায় অবরুদ্ধ পর্যটকদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং এ ঘটনায় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।

ঘটনাটিকে পূর্বপরিকল্পিত বলে অভিহিত করে আইএসপিআর জানায়, স্থানীয় জনগণকে ভয়ভীতি দেখিয়ে অবরোধে অংশগ্রহণ করতে বাধ্য করা এবং তাদের মানবঢাল হিসেবে ব্যবহার করার বিষয়টি অত্যন্ত উদ্বেগের। গোয়েন্দা তথ্যানুযায়ী, নিরাপত্তা বাহিনীর চলমান অভিযানের মুখে কোণঠাসা হয়ে ইউপিডিএফের একটি সশস্ত্র অংশ পর্যটন এলাকায় অবস্থান নিয়েছে। এ ধরনের সহিংসতা পার্বত্য চট্টগ্রামের স্থিতিশীলতা, পর্যটন শিল্প এবং স্থানীয়দের জীবনযাত্রার ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলছে বলেও বিবৃতিতে মন্তব্য করা হয়।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, পার্বত্য এলাকায় শান্তি ও সম্প্রীতি বজায় রাখা এবং স্থানীয় জনগণসহ পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সেনাবাহিনী বেসামরিক প্রশাসন ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় রেখে কাজ করে যাচ্ছে। আগামীতেও পার্বত্য অঞ্চলের শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখার লক্ষ্যে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর এই প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে আইএসপিআর। এ বিষয়ে ইউপিডিএফের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

শেয়ার করুন