২৮ আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইলহান ওমরের বাসভবনে ফেডারেল তদন্তকারী দলের অভিযান

প্রকাশ:

যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যের ডেমোক্র্যাট দলীয় কংগ্রেস সদস্য ইলহান ওমরের ওয়াশিংটন ডিসির বাসভবনে অভিযান পরিচালনা করেছে দেশটির হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ইনভেস্টিগেশনস। সোমবার (১২ অক্টোবর) ভোরে আদালতের অনুমোদিত পরোয়ানা নিয়ে ফেডারেল কর্মকর্তারা এই তল্লাশি কার্যক্রম সম্পন্ন করেন। আগামী ৩ নভেম্বর অনুষ্ঠেয় গুরুত্বপূর্ণ মধ্যবর্তী নির্বাচনের মাত্র তিন সপ্তাহ আগে এই অভিযান মার্কিন রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। বিশেষ করে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অন্যতম কড়া সমালোচক হিসেবে পরিচিত ইলহান ওমরের বাড়িতে এমন অভিযানকে ঘিরে নানামুখী আলোচনার জন্ম হয়েছে। তিনি এসব অভিযোগকে ডানপন্থী রাজনৈতিক আক্রমণ হিসেবে বর্ণনা করেছিলেন। ৪৪ বছর বয়সী ইলহান ওমর যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে অন্যতম পরিচিত মুসলিম নারী নেতা।

মার্কিন বিচার বিভাগের একজন মুখপাত্র বিষয়টি নিশ্চিত করলেও অভিযানে ঠিক কী ধরনের নথি বা আলামত জব্দ করা হয়েছে, কিংবা কাউকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে কি না, তা পরিষ্কার করেনি। এছাড়া তদন্তের পরবর্তী ধাপ সম্পর্কেও আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি। তবে একাধিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সোমালীয় বংশোদ্ভূত এই প্রভাবশালী আইনপ্রণেতার অভিবাসন-সংক্রান্ত নথিতে সম্ভাব্য জালিয়াতির বিষয়টি নিয়ে চলমান ফেডারেল তদন্তের অংশ হিসেবেই এই তল্লাশি চালানো হয়েছে।

তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে ফক্স নিউজ জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসনের সময় ইলহান ওমর যেসব কাগজপত্র জমা দিয়েছিলেন, সেগুলো ঘিরেই মূলত তদন্তকারী দল কাজ করছে। দীর্ঘদিন ধরে বেশ কয়েকজন রিপাবলিকান নেতা অভিযোগ করে আসছেন যে, অভিবাসন সুবিধা পাওয়ার উদ্দেশ্যে ওমর তাঁর নিজের ভাইকে বিয়ে করেছিলেন। তবে এখন পর্যন্ত এই দাবির সপক্ষে কোনো নির্ভরযোগ্য বা প্রকাশ্য প্রমাণ উপস্থাপন করা সম্ভব হয়নি। ওমর বরাবরই এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে একে ভিত্তিহীন, অপমানজনক ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে অভিহিত করেছেন। শৈশবে পরিবারের সঙ্গে সোমালিয়া থেকে যুক্তরাষ্ট্রে আসার সময় তাঁর প্রয়াত বাবা যেসব অভিবাসন নথি পূরণ করেছিলেন, সেগুলোর সত্যতা ও আইনগত বৈধতা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

এর আগে গত সেপ্টেম্বরে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি সেক্রেটারি মার্কওয়েন মুলিন প্রকাশ্যে জানিয়েছিলেন যে, ইলহান ওমরের অভিবাসন ইতিহাস নিয়ে তদন্ত চলমান রয়েছে। পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় ওমর দাবি করেন, প্রেসিডেন্টের বিভিন্ন মন্তব্যের কারণে তাঁর বিরুদ্ধে বিদ্বেষ ছড়িয়ে পড়ছে এবং তাঁর ব্যক্তিগত নিরাপত্তার ঝুঁকি বাড়ছে। সোমবারের এই অভিযানের পর এখনো পর্যন্ত ইলহান ওমরের বিরুদ্ধে কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন কিংবা তাঁকে গ্রেপ্তারের খবর পাওয়া যায়নি। আইন অনুযায়ী আদালতের পরোয়ানায় তল্লাশি চালানো মানেই অভিযুক্ত ব্যক্তির অপরাধ নিশ্চিত হওয়া নয়। অভিযানের সময় বাড়ির আশপাশে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপস্থিতি দেখা যায়। নিরাপত্তার কারণে সংশ্লিষ্ট সড়কে যান চলাচলও সাময়িকভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হয়। এদিকে হোয়াইট হাউসের সীমান্ত নিরাপত্তাবিষয়ক কর্মকর্তা টম হোম্যান গত সেপ্টেম্বরে নিশ্চিত করেছিলেন, ওমরকে ঘিরে একটি ফৌজদারি তদন্ত চলছে।

অভিবাসন জালিয়াতির মতো গুরুতর কোনো অভিযোগ প্রমাণিত হলে তা ইলহান ওমরের মতো একজন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির রাজনৈতিক ভবিষ্যতের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে। অন্যদিকে, তদন্তের পর অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত না হলে ট্রাম্প প্রশাসনের এই উদ্যোগের গ্রহণযোগ্যতা ও উদ্দেশ্য নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক আরও তীব্র হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বর্তমানে সবার নজর রয়েছে আদালতের পরোয়ানার ভিত্তি, জব্দকৃত আলামত এবং বিচার বিভাগের পরবর্তী আনুষ্ঠানিক বক্তব্যের দিকে। তবে এসব অভিযোগের সমর্থনে প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রকাশ্যে সুনির্দিষ্ট প্রমাণ তুলে ধরা হয়নি।

শেয়ার করুন