জাতীয় ক্রিকেট লিগের তৃতীয় দিনে চট্টগ্রামের হয়ে সেঞ্চুরি পেয়েছেন ইরফান শুক্কুর। এর আগে ৪ উইকেটে ৪৭৯ রান নিয়ে দিন শুরু করা চট্টগ্রাম শেষ পর্যন্ত ৫৭৬ রানে গুটিয়ে যায়। দলের পক্ষে সাদিকুর রহমান ১৪৯ ও শাহাদাত হোসেন ১০৯ রান করেন। ৯২ রান নিয়ে দিন শুরু করা ইরফান ব্যক্তিগত ১১২ রান সংগ্রহ করেন। এদিকে কক্সবাজারে দ্বিতীয় ইনিংসে ৪ উইকেটে ১৪৯ রান তুলে দিন শেষ করেছে বরিশাল। চট্টগ্রামের প্রথম ইনিংস থেকে তারা এখনো ১৪৫ রানে পিছিয়ে আছে, ফলে ইনিংস হারের শঙ্কা তৈরি হয়েছে। বরিশাল অধিনায়ক ইফতেখার হোসেন দলের হয়ে সর্বোচ্চ ৭৪ রান করেছেন।
সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ঢাকা বিভাগ ও সিলেটের ম্যাচটি ড্রয়ের পথে রয়েছে। গতকাল ৬ উইকেটে ৫৪৭ রানে ইনিংস ঘোষণা করেছিল ঢাকা। জবাবে ২ উইকেটে ১৫৪ রান নিয়ে তৃতীয় দিন শুরু করা সিলেট ৫ উইকেটে ৪৩১ রান সংগ্রহ করেছে। সিলেটে চারজন ব্যাটসম্যান ফিফটি পেয়েছেন, যার মধ্যে সর্বোচ্চ ৮৯ রান এসেছে আসাদুল্লাহ আল গালিবের ব্যাট থেকে। এ ছাড়া আশরাফুল হাসান ৮১ রানে অপরাজিত আছেন, জাকির হাসান ৬৫ ও সৈকত আলী ৬০ রান করেছেন। মুবিন আহমেদ ২ রানের জন্য ফিফটি মিস করেছেন।
ম্যাচটিতে ব্যাটসম্যানদের আধিপত্যের দিনে ঢাকা বিভাগের ১১ জন খেলোয়াড়ই বল হাতে নিয়েছেন। এমনকি নিয়মিত উইকেটকিপার ও অধিনায়ক মাহিদুল ইসলামও এক ওভার বোলিং করেছেন। স্বীকৃত ক্রিকেটে ২৬৩ ম্যাচে এটাই ছিল মাহিদুলের প্রথম বোলিং। বাংলাদেশের ঘরোয়া প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে এটি সপ্তম ঘটনা যেখানে এক ইনিংসে ১১ জন বোলার বোলিং করলেন। এর আগে ২০০৪-০৫ মৌসুমে সিলেটেই সিলেটের বিপক্ষে ঢাকা বিভাগ এই নজির গড়েছিল। আগামীকাল শেষ দিনে নাটকীয় কিছু না ঘটলে ড্র-ই হতে যাচ্ছে সিলেট ও ঢাকা বিভাগের ম্যাচ। উইকেটকিপিং ছেড়ে অধিনায়ক মাহিদুল ইসলামও করেছেন ১ ওভার। প্রথম শ্রেণি, লিস্ট ‘এ’ ও স্বীকৃত টি-টুয়েন্টি মিলিয়ে খেলা ২৬৩ ম্যাচে এই প্রথম বল করলেন মাহিদুল।
মিরপুরে রাজশাহী বিভাগ দ্বিতীয় ইনিংসে ৩ উইকেটে ৩০০ রান তুলে দিন শেষ করেছে। যদিও তারা খুলনার প্রথম ইনিংসের চেয়ে এখনো ৬৫ রানে পিছিয়ে আছে। প্রথম ইনিংসে ১১৯ রানে অলআউট হওয়া রাজশাহীর বিপক্ষে খুলনা ৪৬৩ রান নিয়ে দিন শুরু করে ৪৮৪ রানে থামে। রাজশাহীর দ্বিতীয় ইনিংসে হাবিবুর রহমান ও সাব্বির হোসেন ১২৬ রানের উদ্বোধনী জুটি গড়েন। হাবিবুর প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে নিজের প্রথম সেঞ্চুরির খুব কাছে পৌঁছে ৯০ রানে আউট হন; ৮৩ বলের ইনিংসে তিনি ৮টি ছক্কা ও ৬টি চার মারেন। সাব্বির হোসেন ৮৮ রান করে মেহেদী হাসানের শিকারে পরিণত হন। প্রিতম কুমার ২৭ ও সাব্বির রহমান ২১ রানে অপরাজিত আছেন। ৯ উইকেটে ৪৬৩ রান নিয়ে দিন শুরু করা খুলনার প্রথম ইনিংস শেষ হয় ৪৮৪ রানে। উদ্বোধনী জুটিতে ১২৬ রান যোগ করেন তাঁরা। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে নিজের প্রথম সেঞ্চুরি থেকে ১০ রান দূরে দাঁড়িয়ে সামিউন বাসীরের বলে লং অফে আফিফের ক্যাচ হন হাবিবুর। নাঈম আহমেদের সঙ্গে ১১৩ রানের জুটি গড়ার পড় ম্যাচে মেহেদী হাসানের সপ্তম শিকার হন ৮৮ রান করে। ২১ বছর বয়সী নাঈম ফিরেছেন ৬৯ রান করে।
সিলেট একাডেমি মাঠে রংপুরের বিপক্ষে ময়মনসিংহ দ্বিতীয় ইনিংসে ৬ উইকেটে ১৯৫ রান তুলেছে। প্রথম ইনিংসে লিড নেওয়া রংপুর এখন ৩২২ রানে এগিয়ে আছে। এর আগে ৬ উইকেটে ১৮৩ রান নিয়ে দিন শুরু করা ময়মনসিংহ প্রথম ইনিংসে ২৯৫ রানে অলআউট হয়। ওপেনার খালিদ হাসান ৭২ ও আবু হায়দার ৫২ রান করেন। রংপুরের দ্বিতীয় ইনিংসে অধিনায়ক আকবর আলী ৭৪ রান করেছেন।





